ঋণচাপের মধ্যেই নতুন প্রকল্পের ঢল, অগ্রাধিকার ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
রাজস্ব ঘাটতি, বৈদেশিক ঋণের চাপ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ধারাবাহিকভাবে বড় ব্যয়ের উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন নিয়ে নীতিনির্ধারণী অগ্রাধিকার ও জবাবদিহি প্রশ্নের মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঋণের বোঝা বহন করা ঢাকা ওয়াসার জন্য ৭২১ কোটি টাকার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি স্থাপন প্রকল্প অনুমোদনের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রকল্পটির বড় অংশ বিদেশি ঋণনির্ভর হওয়ায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর বাড়তি আর্থিক দায় পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অর্থনীতিবিদ ও সুশাসন বিশ্লেষকেরা।
অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের সময়কালে মোট ১৩৫টি নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার ব্যয় প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। বিশেষ করে সরকারের শেষ সময়ে স্বল্প ব্যবধানে বিপুল ব্যয়ের প্রকল্প অনুমোদন উন্নয়ন পরিকল্পনার অগ্রাধিকার, প্রয়োজনীয়তা ও সময়োপযোগিতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, জরুরি অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি তুলনামূলক কম জরুরি বা বিতর্কিত প্রকল্পও তালিকায় স্থান পেয়েছে, যা জনসম্পদের দক্ষ ব্যবহারের প্রশ্ন তুলছে।
খাতভিত্তিক বরাদ্দ বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অবকাঠামো খাত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে। গ্যাস অনুসন্ধান, সরবরাহ এবং বড় অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে বড় অংশের অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। তবে সরাসরি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি বা সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করতে পারে—এমন প্রকল্প তুলনামূলক কম বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল জনগণের বৃহৎ অংশের কাছে পৌঁছানো নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
আঞ্চলিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ভারসাম্যের ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। নতুন প্রকল্পগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশ চট্টগ্রামকেন্দ্রিক হওয়ায় অন্যান্য জেলার উন্নয়ন বঞ্চনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য সমন্বিত ও ভারসাম্যপূর্ণ বিনিয়োগ অপরিহার্য।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর অবকাঠামো ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন রাজনৈতিক প্রভাবের আশঙ্কাও বাড়িয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত উন্নয়ন পরিকল্পনার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে এবং জনগণের আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।
সুশাসন বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণে স্বচ্ছতা, প্রয়োজনভিত্তিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় ঋণনির্ভর উন্নয়ন ভবিষ্যতে অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

অনলাইন ডেক্স 



















যানবাহনে জ্বালানি তেল নেওয়ার সীমা বেঁধে দিলো সরকার