ঢাকা , রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খুলনায় যাকাত আদায়ের নিয়ম কানুন নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৬:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • 260
332

অনলাইন ডেস্ক  :  খুলনা মহানগরীর কেডিএ মিনি কমিউনিটি সেন্টারে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম) এর উদ্যোগে যাকাত আদায়ের নিয়ম কানুন নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে অনুষ্ঠিত সেমিনারে যাকাত ব্যবস্থাপনার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, যাকাতের ধর্মীয় তাৎপর্য, যাকাতের অর্থ সহায়তার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি ও কারিগরি প্রশিক্ষণসহ সিজেডএমের বিভিন্ন কর্মসূচির বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।

সিজেডএম এর ডেপুটি ম্যানেজার মোঃ রাকিবুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট এর হেড অব কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স কর্নেল (অবঃ) মোঃ জাকারিয়া হোসেন।

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এর সদস্য জনাব রুহুল আমীন কুতুবুদ্দিন আহমাদ এর সভাপতিত্বে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা পাবলিক কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল আবু সিদ্দিকুর রহমান, খুলনার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার মুফতি ও মুহাদ্দিস মুফতি মাহফুজুর রহমান। মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, ইন্সটিটিউট অব ইসলামিক সোশ্যাল ফাইন্যান্স এর কনসালটেস্ট শায়খ তারেক মাহমুদ আল আজহারী।

উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট এর এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এবং খুলনা নগরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উক্ত সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় বক্তারা বলেন, যাকাতের মূল লক্ষ্য হচ্ছে গ্রহীতাকে আর্থিকভাবে সচ্ছল করে তোলা, যাতে আজকের গ্রহীতা আগামীতে যাকাত দিতে পারে, স্বাবলম্বী হতে পারে। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় যাকাতের বিকল্প নেই। দেশে আল্লাহর নির্দেশিত বাধ্যতামূলক এই ইবাদতটি সঠিকভাবে প্রতিপালন হচ্ছে না। ফলে দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়ছে অসমতা। ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় যাকাত দিয়ে সমাজের দরিদ্র বঞ্চিত মানুষের উন্নয়নে বিশেষ কোন পরিবর্তন রাখাও সম্ভব হচ্ছে না। সেই চিন্তা থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন মুসলিম দেশে বেসরকারী সংস্থার উদ্যোগে যাকাত তহবিল গঠন করে তাতে সকলকে অংশগ্রহণের আহবান জানিয়ে আসছে। সেই ধারাবাহকতায় দেশেও বিগত ১৭ বছর ধরে যাকাত ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে সিজেডএম।

ব্যক্তিগতভাবে যাকাত দিলে তা টেকসই হয় না। প্রতিষ্ঠানিক উপায়ে যাকাত প্রদাণ করলে টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। সেই জায়গা থেকে সিজেডএম অনন্য ভূমিকা পালন করছে। সেমিনারে শায়খ তারেক মাহমুদ আল আজহারী ব্যাক্তিগত যাকাত ও ব্যবসায়িক যাকাত নিরুপনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। জনাব মুফতি মাহফুজুর রহমান যাকাত বিষয়ক মাসয়ালা মাসায়েল ও প্রশ্নোত্তর অংশে শ্রোতাদের যাকাত বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সিজেডএম যাকাত তহবিল সংগ্রহ করে তা বঞ্চিত মানুষের প্রয়োজনে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিতরণ ও তত্ত্বাবধান করার কাজটি সূচারুরূপে করে যাচ্ছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী করার জন্য মূলধন হস্তান্তরসহ নানাবিধ কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে প্রায় ১৮ লাখ মানুষ সহায়তা পেয়েছে। সিজেডএমের কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে জীবিকা বা আয়-বর্ধক কর্মসূচি, মুদারিব, ফেরদৌসি বা প্রাক-প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, ইনসানিয়াত বা জরুরি সহায়তা, জিনিয়াস বা গুলবাগিচা, নৈপুণ্য বিকাশ ও দাওয়াহ ইত্যাদি।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়বেলায় ‘বিতর্কিত’ প্রকল্প

খুলনায় যাকাত আদায়ের নিয়ম কানুন নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় ০৬:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
332

অনলাইন ডেস্ক  :  খুলনা মহানগরীর কেডিএ মিনি কমিউনিটি সেন্টারে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম) এর উদ্যোগে যাকাত আদায়ের নিয়ম কানুন নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে অনুষ্ঠিত সেমিনারে যাকাত ব্যবস্থাপনার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, যাকাতের ধর্মীয় তাৎপর্য, যাকাতের অর্থ সহায়তার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি ও কারিগরি প্রশিক্ষণসহ সিজেডএমের বিভিন্ন কর্মসূচির বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।

সিজেডএম এর ডেপুটি ম্যানেজার মোঃ রাকিবুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট এর হেড অব কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স কর্নেল (অবঃ) মোঃ জাকারিয়া হোসেন।

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এর সদস্য জনাব রুহুল আমীন কুতুবুদ্দিন আহমাদ এর সভাপতিত্বে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা পাবলিক কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল আবু সিদ্দিকুর রহমান, খুলনার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার মুফতি ও মুহাদ্দিস মুফতি মাহফুজুর রহমান। মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, ইন্সটিটিউট অব ইসলামিক সোশ্যাল ফাইন্যান্স এর কনসালটেস্ট শায়খ তারেক মাহমুদ আল আজহারী।

উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট এর এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এবং খুলনা নগরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উক্ত সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় বক্তারা বলেন, যাকাতের মূল লক্ষ্য হচ্ছে গ্রহীতাকে আর্থিকভাবে সচ্ছল করে তোলা, যাতে আজকের গ্রহীতা আগামীতে যাকাত দিতে পারে, স্বাবলম্বী হতে পারে। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় যাকাতের বিকল্প নেই। দেশে আল্লাহর নির্দেশিত বাধ্যতামূলক এই ইবাদতটি সঠিকভাবে প্রতিপালন হচ্ছে না। ফলে দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়ছে অসমতা। ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় যাকাত দিয়ে সমাজের দরিদ্র বঞ্চিত মানুষের উন্নয়নে বিশেষ কোন পরিবর্তন রাখাও সম্ভব হচ্ছে না। সেই চিন্তা থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন মুসলিম দেশে বেসরকারী সংস্থার উদ্যোগে যাকাত তহবিল গঠন করে তাতে সকলকে অংশগ্রহণের আহবান জানিয়ে আসছে। সেই ধারাবাহকতায় দেশেও বিগত ১৭ বছর ধরে যাকাত ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে সিজেডএম।

ব্যক্তিগতভাবে যাকাত দিলে তা টেকসই হয় না। প্রতিষ্ঠানিক উপায়ে যাকাত প্রদাণ করলে টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। সেই জায়গা থেকে সিজেডএম অনন্য ভূমিকা পালন করছে। সেমিনারে শায়খ তারেক মাহমুদ আল আজহারী ব্যাক্তিগত যাকাত ও ব্যবসায়িক যাকাত নিরুপনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। জনাব মুফতি মাহফুজুর রহমান যাকাত বিষয়ক মাসয়ালা মাসায়েল ও প্রশ্নোত্তর অংশে শ্রোতাদের যাকাত বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সিজেডএম যাকাত তহবিল সংগ্রহ করে তা বঞ্চিত মানুষের প্রয়োজনে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিতরণ ও তত্ত্বাবধান করার কাজটি সূচারুরূপে করে যাচ্ছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী করার জন্য মূলধন হস্তান্তরসহ নানাবিধ কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে প্রায় ১৮ লাখ মানুষ সহায়তা পেয়েছে। সিজেডএমের কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে জীবিকা বা আয়-বর্ধক কর্মসূচি, মুদারিব, ফেরদৌসি বা প্রাক-প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, ইনসানিয়াত বা জরুরি সহায়তা, জিনিয়াস বা গুলবাগিচা, নৈপুণ্য বিকাশ ও দাওয়াহ ইত্যাদি।