ঢাকা , শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা ও নিরাপদ পানি নিশ্চিতের আহ্বান

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • 358
407
অনলাইন ডেস্ক  :   

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ নিরাপদ পানি আন্দোলন (বানিপা)-এর উদ্যোগে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে “জলবায়ু সংকট ও নিরাপদ পানির চ্যালেঞ্জ: বাংলাদেশের করণীয় ও টেকসই সমাধান” শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বানিপার সভাপতি প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ার হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)-এর যুগ্ম সম্পাদক এম. এ. ওয়াহেদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. মোঃ আব্দুল মুঈদ, লায়ন খান আকতারুজ্জামান এমজেএফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের নিরাপদ পানির সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার বিস্তার, অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন, নদী ও জলাশয়ের দূষণ, বন্যা, খরা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রধান অতিথি আবু নাসের খান বলেন, শিল্পকারখানার বর্জ্যের কারণে নদী ও জলাশয় মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়ছে। উন্নত বিশ্বের পরিবেশ দূষণকারী শিল্প ধীরে ধীরে বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হচ্ছে, যা দেশের পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। তিনি কৃষিতে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে পানির অপচয় কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মূল প্রবন্ধে ড. মোঃ আব্দুল মুঈদ উল্লেখ করেন, WHO ও UNICEF-এর ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে এখনও প্রায় ২.১ বিলিয়ন মানুষ নিরাপদভাবে ব্যবস্থাপিত পানীয় জলের সুবিধা থেকে বঞ্চিত, ৩.৪ বিলিয়ন মানুষ নিরাপদ স্যানিটেশন সুবিধা পান না এবং ১.৭ বিলিয়ন মানুষের ঘরে মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের MICS জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশে মাত্র ৩৯.৩ শতাংশ মানুষ নিরাপদভাবে ব্যবস্থাপিত পানীয় জলের আওতায় রয়েছে, যা দেশের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। একই সঙ্গে আর্সেনিক দূষণ, জীবাণুযুক্ত সংরক্ষিত পানি এবং উপকূলীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা নিরাপদ পানির সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।

বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ডা. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা এখন শুধু পরিবেশগত নয়, বরং জনস্বাস্থ্য ও টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা মোকাবিলায় উপযোগী প্রযুক্তি, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং বিকল্প পানির উৎস গড়ে তোলার উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।

আলোচনায় ড. প্রকৌশলী মোঃ আবুল কাসেম নদী, ভূগর্ভস্থ পানি ও জলাভূমির সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাম ও শহরে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ড. মোঃ নাইম হোসেন জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা, গ্রিন বিল্ডিং ও জনগণের অংশগ্রহণভিত্তিক টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নদী ও পৃষ্ঠের পানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং আন্তঃসীমান্ত নদীর ন্যায্য পানিবণ্টন নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আকলিমা খাতুন বলেন, নিরাপদ পানি মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই ওয়াসাসহ সকল পানি সরবরাহ ব্যবস্থার গুণগত মান নিয়মিত ও স্বাধীনভাবে পরীক্ষা, ফলাফল জনসম্মুখে প্রকাশ এবং পাইপলাইনের দূষণ ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক সংস্থা CMN Digylearn Sdn. Bhd.-এর সিইও মো. নূর বিন মো. তাহির বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে পরিবেশ দূষণ ও পানির অপচয় রোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)সহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো সময়ের দাবি।

সেমিনারের সুপারিশ : সেমিনারে বক্তারা বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেন। তারা নদী, ভূগর্ভস্থ পানি ও জলাভূমির সমন্বিত ব্যবস্থাপনা জোরদার, গ্রাম ও শহরে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ সম্প্রসারণ, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পৃষ্ঠের পানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা মোকাবিলায় উপযোগী প্রযুক্তি ও বিকল্প পানির উৎস গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে শিল্পবর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্য শোধন বাধ্যতামূলক করা, নদী ও জলাশয় দূষণ রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ, পানি সরবরাহ ব্যবস্থার গুণগত মান নিয়মিত পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশ, জলবায়ু সহনশীল পানি অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, গবেষণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণভিত্তিক কমিউনিটি পানি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি কৃষিতে পানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং আন্তঃসীমান্ত নদীর ন্যায্য পানিবণ্টন নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের সুপারিশ করা হয়।

সেমিনারে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন যে, নিরাপদ পানি কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার এবং টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। সমন্বিত পরিকল্পনা, কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি নিরাপদ, সুস্থ ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশন এলাকায় অবৈধ দখল উচ্ছেদে বিশেষ অভিযান

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা ও নিরাপদ পানি নিশ্চিতের আহ্বান

আপডেট সময় ০৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
407
অনলাইন ডেস্ক  :   

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ নিরাপদ পানি আন্দোলন (বানিপা)-এর উদ্যোগে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে “জলবায়ু সংকট ও নিরাপদ পানির চ্যালেঞ্জ: বাংলাদেশের করণীয় ও টেকসই সমাধান” শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বানিপার সভাপতি প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ার হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)-এর যুগ্ম সম্পাদক এম. এ. ওয়াহেদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. মোঃ আব্দুল মুঈদ, লায়ন খান আকতারুজ্জামান এমজেএফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের নিরাপদ পানির সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার বিস্তার, অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন, নদী ও জলাশয়ের দূষণ, বন্যা, খরা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রধান অতিথি আবু নাসের খান বলেন, শিল্পকারখানার বর্জ্যের কারণে নদী ও জলাশয় মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়ছে। উন্নত বিশ্বের পরিবেশ দূষণকারী শিল্প ধীরে ধীরে বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হচ্ছে, যা দেশের পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। তিনি কৃষিতে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে পানির অপচয় কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মূল প্রবন্ধে ড. মোঃ আব্দুল মুঈদ উল্লেখ করেন, WHO ও UNICEF-এর ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে এখনও প্রায় ২.১ বিলিয়ন মানুষ নিরাপদভাবে ব্যবস্থাপিত পানীয় জলের সুবিধা থেকে বঞ্চিত, ৩.৪ বিলিয়ন মানুষ নিরাপদ স্যানিটেশন সুবিধা পান না এবং ১.৭ বিলিয়ন মানুষের ঘরে মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের MICS জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশে মাত্র ৩৯.৩ শতাংশ মানুষ নিরাপদভাবে ব্যবস্থাপিত পানীয় জলের আওতায় রয়েছে, যা দেশের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। একই সঙ্গে আর্সেনিক দূষণ, জীবাণুযুক্ত সংরক্ষিত পানি এবং উপকূলীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা নিরাপদ পানির সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।

বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ডা. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা এখন শুধু পরিবেশগত নয়, বরং জনস্বাস্থ্য ও টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা মোকাবিলায় উপযোগী প্রযুক্তি, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং বিকল্প পানির উৎস গড়ে তোলার উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।

আলোচনায় ড. প্রকৌশলী মোঃ আবুল কাসেম নদী, ভূগর্ভস্থ পানি ও জলাভূমির সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাম ও শহরে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ড. মোঃ নাইম হোসেন জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা, গ্রিন বিল্ডিং ও জনগণের অংশগ্রহণভিত্তিক টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নদী ও পৃষ্ঠের পানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং আন্তঃসীমান্ত নদীর ন্যায্য পানিবণ্টন নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আকলিমা খাতুন বলেন, নিরাপদ পানি মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই ওয়াসাসহ সকল পানি সরবরাহ ব্যবস্থার গুণগত মান নিয়মিত ও স্বাধীনভাবে পরীক্ষা, ফলাফল জনসম্মুখে প্রকাশ এবং পাইপলাইনের দূষণ ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক সংস্থা CMN Digylearn Sdn. Bhd.-এর সিইও মো. নূর বিন মো. তাহির বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে পরিবেশ দূষণ ও পানির অপচয় রোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)সহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো সময়ের দাবি।

সেমিনারের সুপারিশ : সেমিনারে বক্তারা বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেন। তারা নদী, ভূগর্ভস্থ পানি ও জলাভূমির সমন্বিত ব্যবস্থাপনা জোরদার, গ্রাম ও শহরে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ সম্প্রসারণ, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পৃষ্ঠের পানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা মোকাবিলায় উপযোগী প্রযুক্তি ও বিকল্প পানির উৎস গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে শিল্পবর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্য শোধন বাধ্যতামূলক করা, নদী ও জলাশয় দূষণ রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ, পানি সরবরাহ ব্যবস্থার গুণগত মান নিয়মিত পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশ, জলবায়ু সহনশীল পানি অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, গবেষণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণভিত্তিক কমিউনিটি পানি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি কৃষিতে পানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং আন্তঃসীমান্ত নদীর ন্যায্য পানিবণ্টন নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের সুপারিশ করা হয়।

সেমিনারে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন যে, নিরাপদ পানি কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার এবং টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। সমন্বিত পরিকল্পনা, কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি নিরাপদ, সুস্থ ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।