ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে যুবদল নেতা গোল্ড শহীদের মাফিয়া সাম্রাজ্য!

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • 251
313
বিশেষ প্রতিনিধি :

যশোর-বেনাপোল সীমান্তে গড়ে উঠেছে এক অদৃশ্য অপরাধ সাম্রাজ্য, যেখানে স্বর্ণ চোরাচালান, ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্যাতন, খুন,  রাজনৈতিক এবং অবৈধ সম্পদের প্রভাব বিস্তার একসঙ্গে জড়িয়ে গেছে। সম্প্রতি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার দক্ষিন ভাদলি গ্রামের সাগর হত্যার অনুসন্ধানে গিয়ে নতুন করে সামনে এসেছে এই সোনা চোরাচাল চক্র। এসব ঘটনা অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছেন দুদক ও গোয়েন্দারা। তাদের উদ্দেশ্য, এই ঘটনার নেপথ্যে লুকিয়ে থাকা আসল রহস্য ও ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অভিযোগে প্রাথমিকভাবে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যেসব সদস্যের নাম এসেছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এই চক্রের বিষয়ে কেন্দ্রীয় যুবদল একটি তদন্ত কমিটি কঠন করে এরই মধ্যে কাজও শুরু করেছে এবং বেশ কিছু তথ্য-প্রমাণও পেয়েছে বলে জানা গেছে। তারা ৭ দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধে যুক্ত থাকার প্রমাণ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কেন্দ্রীয় যুবদল।

এই অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে এর আগেও দৈনিক গণতদন্ত পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। গোয়েন্দা তথ্য ও একটি অডিও কল রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এই পাচারচক্রের মূল হোতা হিসেবে যাদের নাম আসছে তারা হলেন যশোর জেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনসারুল হক রানা, যশোরের শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শহীদ ওরফে গোল্ড শহীদ এবং আওয়ামী লীগ আমলের স্বর্ণ চোরাচালান ও মাদক সিন্ডিকেটের হোতা মেহেরুল্লাহ মেম্বার ও বেনাপোলের গোল্ড নাসির।

গোয়েন্দা ও পুলিশসহ স্থানীয় একাধিক সূত্র মতে, যশোর-বেনাপোল সীমান্তে স্বর্ণ চোরাচালান, অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা এবং মাদক পাচারের মতো অপরাধের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এখন শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী শহিদুল ইসলাম শহিদ নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ আছে। এই সিন্ডিকেটটিই আগে নিয়ন্ত্রণ করতেন স্থানীয় যুবলীগের নেতাকর্মীরা।

গোয়েন্দা তথ্য মতে, ২০২৪-২৬ সময়কালে এই সিন্ডিকেট চক্র বেনাপোলের পুটখালী, দৌলতপুর, ঘিবা, গোগা এবং সাদিপুর সীমান্ত ব্যবহার করে ভারতে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ পাচার করে। এই পাচার চক্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত স্থানীয় বিএনপির একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। দৈনিক গণতদন্ত পত্রিকায় এই গোল্ড শহিদ এর নির্মম নির্যাতন এবং নির্যাতনের মাধ্যমে নিরীহ মানুষকে হত্যা ও ন্যায় বিচার পাওয়ায় বাধা  সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর এলাকায় তোলপাড় শুরু হয় এবং নতুন করে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।

এই বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনেও একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং দুদক এই অভিযোগ নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক উপপরিচালক এই প্রতিবেদককে জানান , এসব অভিযোগের পরই সীমান্তে দুদকের গোয়েন্দা টিম কাজ করছে এবং সম্প্রতি এই চক্রের একজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

দলীয়ভাবে গঠন করা তদন্ত কমিটির সদস্য যুবদলের শীর্ষ নেতা এডভোকেট তানভীর হাসান সোহেল জানান, দল কোনো অপকর্মের পক্ষে নেই। যুবদল সারা দেশে মানুষের মনে যে জায়গা করে নিয়েছে, সেটা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হোক সেটা তারা চান না। যুবদল এ ধরনের অভিযুক্ত সবার বিরুদ্ধে আইনগত ও সাংঠনিক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির তদন্ত টিমের প্রধান শাহ নাসির উদ্দিন রুমান  জানান, আমরা এসব অভিযোগের প্রমাণ পেলে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানিয়ে থাকি। কেন্দ্রীয় কমিটি এসব বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। গুরুতর অভিযোগ পেলে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এই সংবাদ প্রকাশের পরে গোল্ড শহিদ ও তার সংঘবদ্ধ দল আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং যারা তথ্য সরবরাহ করছে অনুমান করে তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে যাচ্ছে এখন ভুক্তভোগী ও নির্যাতিতরা চরম অনিশ্চয়তার মাঝে দিন কাটাইতেছে।

এই বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার সংস্হা ভার্ড বাংলাদেশ ঠঅজউ-ইঅঘএখঅউঊঝঐ এর পক্ষ থেকে রেঞ্জ ডিআইজি খুলনা বরাবর গোল্ড শহিদের নির্যাতনে মারা যাওয়া সাগরের পরিবারকে আইনী সহায়তা প্রদানের জন্য একটি চিঠি দেওয়া হলে রেঞ্জ ডিআইজি খুলনা অফিস থেকে পুলিশ সুপার যশোর জেলাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দেশে ফেরা অনাকাঙ্ক্ষিত : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে যুবদল নেতা গোল্ড শহীদের মাফিয়া সাম্রাজ্য!

আপডেট সময় ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
313
বিশেষ প্রতিনিধি :

যশোর-বেনাপোল সীমান্তে গড়ে উঠেছে এক অদৃশ্য অপরাধ সাম্রাজ্য, যেখানে স্বর্ণ চোরাচালান, ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্যাতন, খুন,  রাজনৈতিক এবং অবৈধ সম্পদের প্রভাব বিস্তার একসঙ্গে জড়িয়ে গেছে। সম্প্রতি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার দক্ষিন ভাদলি গ্রামের সাগর হত্যার অনুসন্ধানে গিয়ে নতুন করে সামনে এসেছে এই সোনা চোরাচাল চক্র। এসব ঘটনা অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছেন দুদক ও গোয়েন্দারা। তাদের উদ্দেশ্য, এই ঘটনার নেপথ্যে লুকিয়ে থাকা আসল রহস্য ও ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অভিযোগে প্রাথমিকভাবে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যেসব সদস্যের নাম এসেছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এই চক্রের বিষয়ে কেন্দ্রীয় যুবদল একটি তদন্ত কমিটি কঠন করে এরই মধ্যে কাজও শুরু করেছে এবং বেশ কিছু তথ্য-প্রমাণও পেয়েছে বলে জানা গেছে। তারা ৭ দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধে যুক্ত থাকার প্রমাণ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কেন্দ্রীয় যুবদল।

এই অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে এর আগেও দৈনিক গণতদন্ত পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। গোয়েন্দা তথ্য ও একটি অডিও কল রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এই পাচারচক্রের মূল হোতা হিসেবে যাদের নাম আসছে তারা হলেন যশোর জেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনসারুল হক রানা, যশোরের শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শহীদ ওরফে গোল্ড শহীদ এবং আওয়ামী লীগ আমলের স্বর্ণ চোরাচালান ও মাদক সিন্ডিকেটের হোতা মেহেরুল্লাহ মেম্বার ও বেনাপোলের গোল্ড নাসির।

গোয়েন্দা ও পুলিশসহ স্থানীয় একাধিক সূত্র মতে, যশোর-বেনাপোল সীমান্তে স্বর্ণ চোরাচালান, অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা এবং মাদক পাচারের মতো অপরাধের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এখন শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী শহিদুল ইসলাম শহিদ নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ আছে। এই সিন্ডিকেটটিই আগে নিয়ন্ত্রণ করতেন স্থানীয় যুবলীগের নেতাকর্মীরা।

গোয়েন্দা তথ্য মতে, ২০২৪-২৬ সময়কালে এই সিন্ডিকেট চক্র বেনাপোলের পুটখালী, দৌলতপুর, ঘিবা, গোগা এবং সাদিপুর সীমান্ত ব্যবহার করে ভারতে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ পাচার করে। এই পাচার চক্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত স্থানীয় বিএনপির একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। দৈনিক গণতদন্ত পত্রিকায় এই গোল্ড শহিদ এর নির্মম নির্যাতন এবং নির্যাতনের মাধ্যমে নিরীহ মানুষকে হত্যা ও ন্যায় বিচার পাওয়ায় বাধা  সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর এলাকায় তোলপাড় শুরু হয় এবং নতুন করে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।

এই বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনেও একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং দুদক এই অভিযোগ নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক উপপরিচালক এই প্রতিবেদককে জানান , এসব অভিযোগের পরই সীমান্তে দুদকের গোয়েন্দা টিম কাজ করছে এবং সম্প্রতি এই চক্রের একজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

দলীয়ভাবে গঠন করা তদন্ত কমিটির সদস্য যুবদলের শীর্ষ নেতা এডভোকেট তানভীর হাসান সোহেল জানান, দল কোনো অপকর্মের পক্ষে নেই। যুবদল সারা দেশে মানুষের মনে যে জায়গা করে নিয়েছে, সেটা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হোক সেটা তারা চান না। যুবদল এ ধরনের অভিযুক্ত সবার বিরুদ্ধে আইনগত ও সাংঠনিক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির তদন্ত টিমের প্রধান শাহ নাসির উদ্দিন রুমান  জানান, আমরা এসব অভিযোগের প্রমাণ পেলে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানিয়ে থাকি। কেন্দ্রীয় কমিটি এসব বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। গুরুতর অভিযোগ পেলে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এই সংবাদ প্রকাশের পরে গোল্ড শহিদ ও তার সংঘবদ্ধ দল আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং যারা তথ্য সরবরাহ করছে অনুমান করে তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে যাচ্ছে এখন ভুক্তভোগী ও নির্যাতিতরা চরম অনিশ্চয়তার মাঝে দিন কাটাইতেছে।

এই বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার সংস্হা ভার্ড বাংলাদেশ ঠঅজউ-ইঅঘএখঅউঊঝঐ এর পক্ষ থেকে রেঞ্জ ডিআইজি খুলনা বরাবর গোল্ড শহিদের নির্যাতনে মারা যাওয়া সাগরের পরিবারকে আইনী সহায়তা প্রদানের জন্য একটি চিঠি দেওয়া হলে রেঞ্জ ডিআইজি খুলনা অফিস থেকে পুলিশ সুপার যশোর জেলাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।