ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন বিশ্ববিদ্যালয় না হওয়া পর্যন্ত সাত কলেজ থাকবে ইউজিসির অধীনে

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ মে ২০২৫
  • 208
92

সিনিয়র রিপোর্টার

নতুন প্রতিষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ চালু না হওয়া পর্যন্ত ঢাকার সরকারি সাত কলেজের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সরাসরি তত্ত্বাবধানে। অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ঢাকা কলেজের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক একেএম ইলিয়াসকে এই প্রশাসনের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

রবিবার (১৮ মে) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান। তিনি জানান, অধ্যাপক একেএম ইলিয়াসকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং তিনি এই অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের নেতৃত্ব দেবেন। তিনি আরো বলেন, শিগগিরই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

এই অন্তর্বর্তী কাঠামোর আওতায় থাকবে রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজ—ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ এবং সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ। এই সাতটি কলেজ ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়।

সরকার ইতোমধ্যে এই কলেজগুলোর জন্য একটি একক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সে লক্ষ্যে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ নামের একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিচালিত হবে একটি ‘হাইব্রিড মডেলে’, যেখানে ৪০ শতাংশ পাঠদান হবে অনলাইনে এবং বাকি ৬০ শতাংশ শ্রেণিকক্ষে শারীরিক উপস্থিতিতে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই সাত কলেজে অনুষদভিত্তিক ক্যাম্পাস গড়ে তোলা হবে। উদাহরণস্বরূপ, সরকারি তিতুমীর কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্য কলেজগুলোতেও অনুরূপভাবে বিষয়ভিত্তিক অনুষদ স্থাপনের চিন্তাভাবনা চলছে।

তবে, পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে কার্যক্রম শুরু করতে প্রয়োজন হবে আইনগত অনুমোদন, অবকাঠামোগত প্রস্তুতি এবং প্রশাসনিক কাঠামো গঠন, যা সময়সাপেক্ষ। সেই সময়ের ব্যবধান পূরণে ইউজিসি অস্থায়ীভাবে কলেজগুলো তত্ত্বাবধান করবে এবং একাধিক কলেজের ওপর নজরদারি চালাবে একজন প্রশাসক।

প্রসঙ্গত, এই সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের জন্য দ্রুত গেজেট প্রকাশের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। রবিবার তারা সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে জানান, সোমবারের (১৯ মে) মধ্যে যদি দাবি পূরণ না হয়, তবে তারা আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। শিক্ষার্থীরা জানান, তারা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি গ্রহণ করবেন।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

শাহজালালের থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে আগ্রহ আমিরাতের ডিনাটার

নতুন বিশ্ববিদ্যালয় না হওয়া পর্যন্ত সাত কলেজ থাকবে ইউজিসির অধীনে

আপডেট সময় ০৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ মে ২০২৫
92

সিনিয়র রিপোর্টার

নতুন প্রতিষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ চালু না হওয়া পর্যন্ত ঢাকার সরকারি সাত কলেজের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সরাসরি তত্ত্বাবধানে। অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ঢাকা কলেজের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক একেএম ইলিয়াসকে এই প্রশাসনের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

রবিবার (১৮ মে) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান। তিনি জানান, অধ্যাপক একেএম ইলিয়াসকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং তিনি এই অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের নেতৃত্ব দেবেন। তিনি আরো বলেন, শিগগিরই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

এই অন্তর্বর্তী কাঠামোর আওতায় থাকবে রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজ—ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ এবং সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ। এই সাতটি কলেজ ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়।

সরকার ইতোমধ্যে এই কলেজগুলোর জন্য একটি একক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সে লক্ষ্যে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ নামের একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিচালিত হবে একটি ‘হাইব্রিড মডেলে’, যেখানে ৪০ শতাংশ পাঠদান হবে অনলাইনে এবং বাকি ৬০ শতাংশ শ্রেণিকক্ষে শারীরিক উপস্থিতিতে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই সাত কলেজে অনুষদভিত্তিক ক্যাম্পাস গড়ে তোলা হবে। উদাহরণস্বরূপ, সরকারি তিতুমীর কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্য কলেজগুলোতেও অনুরূপভাবে বিষয়ভিত্তিক অনুষদ স্থাপনের চিন্তাভাবনা চলছে।

তবে, পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে কার্যক্রম শুরু করতে প্রয়োজন হবে আইনগত অনুমোদন, অবকাঠামোগত প্রস্তুতি এবং প্রশাসনিক কাঠামো গঠন, যা সময়সাপেক্ষ। সেই সময়ের ব্যবধান পূরণে ইউজিসি অস্থায়ীভাবে কলেজগুলো তত্ত্বাবধান করবে এবং একাধিক কলেজের ওপর নজরদারি চালাবে একজন প্রশাসক।

প্রসঙ্গত, এই সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের জন্য দ্রুত গেজেট প্রকাশের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। রবিবার তারা সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে জানান, সোমবারের (১৯ মে) মধ্যে যদি দাবি পূরণ না হয়, তবে তারা আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। শিক্ষার্থীরা জানান, তারা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি গ্রহণ করবেন।