ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রকল্প পরিচালক শফিকুর রহমান ও ধলেশ্বরী সিকিউরিটি ঘিরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে বিরুদ্ধে  অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৭:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • 183
211
নিজস্ব প্রতিবেদক :

সরকারি প্রকল্পের আওতায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, ঘুষ লেনদেন ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দুধ ও মাংস উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত একটি প্রকল্পে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রকল্পটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কৃষিবিদ মো. শফিকুর রহমান। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সাতটি পদে মোট ১৩১ জন জনবল নিয়োগের প্রয়োজন হয়। এই নিয়োগ কার্যক্রম টেন্ডারের মাধ্যমে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান—ধলেশ্বরী সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্লিনিং সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেড—কে দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের কাছ থেকে পদভেদে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। গড়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা হিসেবে মোট প্রায় ৪ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এ অর্থের একটি অংশ প্রকল্প পরিচালকের কাছে গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার পছন্দের অন্তত ১৩ জনকে সরাসরি নিয়োগ দেওয়ার কথাও জানা গেছে।

২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর প্রকল্প পরিচালকের স্বাক্ষরিত ‘নোটিশ অব অ্যাওয়ার্ড’-এর মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজটি পায়। এরপর থেকেই কথিত অনিয়ম শুরু হয় বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুর রহমান সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “নিয়োগ কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অধীনে হয়েছে।”

অন্যদিকে, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার একটি ছোট অফিস থেকে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক আতিকুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতীতেও অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং প্রতিবাদকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, প্রতিবেদককে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য চাপ ও হুমকির অভিযোগও উঠেছে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

 

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দেশে ফেরা অনাকাঙ্ক্ষিত : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকল্প পরিচালক শফিকুর রহমান ও ধলেশ্বরী সিকিউরিটি ঘিরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে বিরুদ্ধে  অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট সময় ০৭:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
211
নিজস্ব প্রতিবেদক :

সরকারি প্রকল্পের আওতায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, ঘুষ লেনদেন ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দুধ ও মাংস উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত একটি প্রকল্পে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রকল্পটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কৃষিবিদ মো. শফিকুর রহমান। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সাতটি পদে মোট ১৩১ জন জনবল নিয়োগের প্রয়োজন হয়। এই নিয়োগ কার্যক্রম টেন্ডারের মাধ্যমে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান—ধলেশ্বরী সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্লিনিং সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেড—কে দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের কাছ থেকে পদভেদে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। গড়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা হিসেবে মোট প্রায় ৪ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এ অর্থের একটি অংশ প্রকল্প পরিচালকের কাছে গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার পছন্দের অন্তত ১৩ জনকে সরাসরি নিয়োগ দেওয়ার কথাও জানা গেছে।

২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর প্রকল্প পরিচালকের স্বাক্ষরিত ‘নোটিশ অব অ্যাওয়ার্ড’-এর মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজটি পায়। এরপর থেকেই কথিত অনিয়ম শুরু হয় বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুর রহমান সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “নিয়োগ কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অধীনে হয়েছে।”

অন্যদিকে, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার একটি ছোট অফিস থেকে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক আতিকুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতীতেও অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং প্রতিবাদকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, প্রতিবেদককে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য চাপ ও হুমকির অভিযোগও উঠেছে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।