ঢাকা , শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে ইসলামী ব্যাংক

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • 187
208

অনলাইন ডেস্ক  :  চেয়ারম্যান নিয়োগকে ঘিরে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে আমানত উত্তোলন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর ফলে তারল্য চাপে পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছে ব্যাংকটি। ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়। ঈদের ছুটির পর গত রোববার পর্যন্ত টানা পাঁচ কার্যদিবসে ইসলামী ব্যাংক থেকে জমার তুলনায় প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বেশি উত্তোলন হয়েছে। ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের ধারণা, সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে কিছু গ্রাহক আমানত তুলে নিচ্ছেন।সূত্র আরও জানায়, বাড়তি উত্তোলনের কারণে ব্যাংকটি আবারও বাংলাদেশ ব্যাংকে বিধিবদ্ধ নগদ জমা (সিআরআর) সংরক্ষণে চাপে পড়েছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত হিসাবে এখনও পর্যাপ্ত অর্থ রয়েছে। তবে সিআরআর ঘাটতি মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিশেষ তহবিলের আবেদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাংকের চলতি হিসাবে আগে ৭ হাজার ১৫ কোটি টাকার বেশি অর্থ ছিল, যা বর্তমানে কমে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পর ২০২২ সাল থেকেই ইসলামী ব্যাংক বিভিন্ন সংকটের মুখোমুখি হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটিতে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর একটি পক্ষ ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে আন্দোলন শুরু করে। গত ১ জুন থেকে চলা এ আন্দোলনে তার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানানো হচ্ছে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকে দায়িত্ব পালনকালে খুরশীদ আলম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিক্ষোভের মুখে তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল এস আলম গ্রুপের হাতে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। সম্প্রতি ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদত্যাগ করেন।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশন এলাকায় অবৈধ দখল উচ্ছেদে বিশেষ অভিযান

বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে ইসলামী ব্যাংক

আপডেট সময় ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
208

অনলাইন ডেস্ক  :  চেয়ারম্যান নিয়োগকে ঘিরে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে আমানত উত্তোলন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর ফলে তারল্য চাপে পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছে ব্যাংকটি। ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়। ঈদের ছুটির পর গত রোববার পর্যন্ত টানা পাঁচ কার্যদিবসে ইসলামী ব্যাংক থেকে জমার তুলনায় প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বেশি উত্তোলন হয়েছে। ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের ধারণা, সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে কিছু গ্রাহক আমানত তুলে নিচ্ছেন।সূত্র আরও জানায়, বাড়তি উত্তোলনের কারণে ব্যাংকটি আবারও বাংলাদেশ ব্যাংকে বিধিবদ্ধ নগদ জমা (সিআরআর) সংরক্ষণে চাপে পড়েছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত হিসাবে এখনও পর্যাপ্ত অর্থ রয়েছে। তবে সিআরআর ঘাটতি মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিশেষ তহবিলের আবেদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাংকের চলতি হিসাবে আগে ৭ হাজার ১৫ কোটি টাকার বেশি অর্থ ছিল, যা বর্তমানে কমে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পর ২০২২ সাল থেকেই ইসলামী ব্যাংক বিভিন্ন সংকটের মুখোমুখি হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটিতে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর একটি পক্ষ ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে আন্দোলন শুরু করে। গত ১ জুন থেকে চলা এ আন্দোলনে তার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানানো হচ্ছে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকে দায়িত্ব পালনকালে খুরশীদ আলম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিক্ষোভের মুখে তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল এস আলম গ্রুপের হাতে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। সম্প্রতি ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদত্যাগ করেন।