ঢাকা , সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাইয়ের নামে টেন্ডার : প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৮:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫
  • 226
54
ইসলাম সবুজ : সাড়ে ২০ কোটি টাকার প্রাক্কলনে প্রকৃত নির্মাণ ব্যয় ৭–৮ কোটি, অভিযোগ প্রকল্প পরিচালকের আত্মীয় সংশ্লিষ্টতার। টেন্ডার (দরপত্র) প্রকল্পে দুর্নীতি একটি গুরুতর সমস্যা, যা সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই দেখা যায়। এই দুর্নীতি প্রকল্পের গুণগত মান কমিয়ে দেয়, সরকারের অর্থ অপচয় করে এবং সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে। সরকারি একটি গুদামঘর নির্মাণ প্রকল্পে টেন্ডার পেয়ে বসে আছেন প্রকল্প পরিচালকের ভাই।
অভিযোগ উঠেছে, প্রকৃত নির্মাণ ব্যয় যেখানে ৭ থেকে ৮ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত, সেখানে প্রাক্কলন করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ২০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা, এই টেন্ডারের মাধ্যমে অন্তত ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা লোপাট হতে পারে। অভিযোগের তীর প্রকল্প পরিচালক আমিনুল ইসলাম এবং তার ভাইয়ের দিকে। অভিযোগকারীরা বলছেন, এই টেন্ডার পদ্ধতি বৈধতা পেলে সরকারি প্রকল্পে স্বজনপ্রীতির দায় এড়ানো যাবে না, এমনকি দেশের প্রচলিত আইনও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, ইতোমধ্যে টেন্ডারপ্রাপ্তির পরপরই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, যিনি প্রকল্প পরিচালকের ভাই বলে পরিচিত, অনুমোদন পাওয়ার মাধ্যমেই দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা লাভ করে বসে আছেন। অর্থাৎ কাগজে-কলমে কাজ শুরু না করেই বিপুল অঙ্কের টাকার ভাগ চলে গেছে সংশ্লিষ্ট মহলের পকেটে।
প্রকল্প পরিচালকের পাল্টা দাবি : ‘সবই মিথ্যা’। তবে এই বিষয়ে সরাসরি কথা বলেছেন প্রকল্প পরিচালক আমিনুল ইসলাম। দৈনিক গণমুক্তি প্রতিনিধিকে বলেন,এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ। আমাদের নাম ব্যবহার করে অন্যায়ভাবে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্ট এটা অন্যায়। আপনারাও আইনের ঊর্ধ্বে নন।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা এমন মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুজব ছড়িয়ে বা অপপ্রচার চালিয়ে প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত করলে সেটিও বিচারের আওতায় আসবে।’
অর্থ লোপাটের অভিযোগে তদন্ত দাবি স্থানীয় জনগণের, কিছু টেন্ডারপ্রত্যাশী এবং নিরপেক্ষ ঠিকাদার বলছেন, সাড়ে ২০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজের মান যদি শেষ পর্যন্ত ৮ কোটি টাকার ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে এখানে অন্তত ১২ কোটি টাকা হরিলুট হওয়া অসম্ভব নয়। তারা টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ঠিকাদার নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাব বা আত্মীয়তার ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
স্বজনপ্রীতির অভিযোগ নতুন নয় সরকারি প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালকের আত্মীয়ের ঠিকাদারি পাওয়ার বিষয়টি নতুন নয়। তবে এমন ক্ষেত্রে সাধারণত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এই প্রকল্পে এখনও কোনো তদন্ত শুরু হয়নি বলে জানা গেছে। প্রকল্পে সরকারের অর্থবছরের শেষভাগে টেন্ডার দিয়ে হঠাৎ অনুমোদন এবং দ্রুত কাজ শুরুর বিষয়টিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

সরকার মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে বিশ্বাস করে না : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ভাইয়ের নামে টেন্ডার : প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে

আপডেট সময় ০৮:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫
54
ইসলাম সবুজ : সাড়ে ২০ কোটি টাকার প্রাক্কলনে প্রকৃত নির্মাণ ব্যয় ৭–৮ কোটি, অভিযোগ প্রকল্প পরিচালকের আত্মীয় সংশ্লিষ্টতার। টেন্ডার (দরপত্র) প্রকল্পে দুর্নীতি একটি গুরুতর সমস্যা, যা সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই দেখা যায়। এই দুর্নীতি প্রকল্পের গুণগত মান কমিয়ে দেয়, সরকারের অর্থ অপচয় করে এবং সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে। সরকারি একটি গুদামঘর নির্মাণ প্রকল্পে টেন্ডার পেয়ে বসে আছেন প্রকল্প পরিচালকের ভাই।
অভিযোগ উঠেছে, প্রকৃত নির্মাণ ব্যয় যেখানে ৭ থেকে ৮ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত, সেখানে প্রাক্কলন করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ২০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা, এই টেন্ডারের মাধ্যমে অন্তত ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা লোপাট হতে পারে। অভিযোগের তীর প্রকল্প পরিচালক আমিনুল ইসলাম এবং তার ভাইয়ের দিকে। অভিযোগকারীরা বলছেন, এই টেন্ডার পদ্ধতি বৈধতা পেলে সরকারি প্রকল্পে স্বজনপ্রীতির দায় এড়ানো যাবে না, এমনকি দেশের প্রচলিত আইনও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, ইতোমধ্যে টেন্ডারপ্রাপ্তির পরপরই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, যিনি প্রকল্প পরিচালকের ভাই বলে পরিচিত, অনুমোদন পাওয়ার মাধ্যমেই দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা লাভ করে বসে আছেন। অর্থাৎ কাগজে-কলমে কাজ শুরু না করেই বিপুল অঙ্কের টাকার ভাগ চলে গেছে সংশ্লিষ্ট মহলের পকেটে।
প্রকল্প পরিচালকের পাল্টা দাবি : ‘সবই মিথ্যা’। তবে এই বিষয়ে সরাসরি কথা বলেছেন প্রকল্প পরিচালক আমিনুল ইসলাম। দৈনিক গণমুক্তি প্রতিনিধিকে বলেন,এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ। আমাদের নাম ব্যবহার করে অন্যায়ভাবে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্ট এটা অন্যায়। আপনারাও আইনের ঊর্ধ্বে নন।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা এমন মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুজব ছড়িয়ে বা অপপ্রচার চালিয়ে প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত করলে সেটিও বিচারের আওতায় আসবে।’
অর্থ লোপাটের অভিযোগে তদন্ত দাবি স্থানীয় জনগণের, কিছু টেন্ডারপ্রত্যাশী এবং নিরপেক্ষ ঠিকাদার বলছেন, সাড়ে ২০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজের মান যদি শেষ পর্যন্ত ৮ কোটি টাকার ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে এখানে অন্তত ১২ কোটি টাকা হরিলুট হওয়া অসম্ভব নয়। তারা টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ঠিকাদার নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাব বা আত্মীয়তার ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
স্বজনপ্রীতির অভিযোগ নতুন নয় সরকারি প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালকের আত্মীয়ের ঠিকাদারি পাওয়ার বিষয়টি নতুন নয়। তবে এমন ক্ষেত্রে সাধারণত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এই প্রকল্পে এখনও কোনো তদন্ত শুরু হয়নি বলে জানা গেছে। প্রকল্পে সরকারের অর্থবছরের শেষভাগে টেন্ডার দিয়ে হঠাৎ অনুমোদন এবং দ্রুত কাজ শুরুর বিষয়টিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।