ঢাকা , শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মেয়েকে ‘শেষ বার্তা’ পাঠিয়ে প্রাণ দিলেন পুলিশ সদস্য

94

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন একটি পুলিশ ফাঁড়ির টয়লেট থেকে শফিকুল ইসলাম (৪২) নামে কর্মরত এক কনস্টেবলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি পুলিশ সদস্যদের মধ্যে শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে ফাঁড়ির ভেতর থেকেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শফিকুল ইসলামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব থানার মৌটুপী গ্রামে। তিনি ওই এলাকার মান্নান মল্লিকের ছেলে। শফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে যাত্রাবাড়ী পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ২০০৩ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, মানসিক চাপ ও হতাশা থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, আত্মহত্যার আগে রাত আনুমানিক ৩টা ২৫ মিনিটে শফিকুল ইসলাম তার বড় মেয়েকে মোবাইল ফোনে একটি বার্তা পাঠান। ওই বার্তায় তিনি লেখেন, ‘আমি তোমার জন্য কিছুই করতে পারলাম না। আমাকে ক্ষমা করে দিও। জুনায়েদ ও জিহাদকে দেখে রেখো।’ বার্তা পাঠানোর পর মেয়েটি ফোন করলে তিনি আর কল রিসিভ করেননি।

নিহতের স্ত্রীর বড় ভাই আব্দুল হান্নান জানান, শফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত ও পেশাগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি নিয়মিত হতাশা ও মানসিক চাপে ভুগছিলেন বলে পরিবার লক্ষ্য করেছিল।

যাত্রাবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাসেল জানান, ফাঁড়ির ওয়াশরুমে শফিকুল ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়। পরে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠান।

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

যানবাহনে জ্বালানি তেল নেওয়ার সীমা বেঁধে দিলো সরকার

মেয়েকে ‘শেষ বার্তা’ পাঠিয়ে প্রাণ দিলেন পুলিশ সদস্য

আপডেট সময় ০৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
94

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন একটি পুলিশ ফাঁড়ির টয়লেট থেকে শফিকুল ইসলাম (৪২) নামে কর্মরত এক কনস্টেবলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি পুলিশ সদস্যদের মধ্যে শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে ফাঁড়ির ভেতর থেকেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শফিকুল ইসলামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব থানার মৌটুপী গ্রামে। তিনি ওই এলাকার মান্নান মল্লিকের ছেলে। শফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে যাত্রাবাড়ী পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ২০০৩ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, মানসিক চাপ ও হতাশা থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, আত্মহত্যার আগে রাত আনুমানিক ৩টা ২৫ মিনিটে শফিকুল ইসলাম তার বড় মেয়েকে মোবাইল ফোনে একটি বার্তা পাঠান। ওই বার্তায় তিনি লেখেন, ‘আমি তোমার জন্য কিছুই করতে পারলাম না। আমাকে ক্ষমা করে দিও। জুনায়েদ ও জিহাদকে দেখে রেখো।’ বার্তা পাঠানোর পর মেয়েটি ফোন করলে তিনি আর কল রিসিভ করেননি।

নিহতের স্ত্রীর বড় ভাই আব্দুল হান্নান জানান, শফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত ও পেশাগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি নিয়মিত হতাশা ও মানসিক চাপে ভুগছিলেন বলে পরিবার লক্ষ্য করেছিল।

যাত্রাবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাসেল জানান, ফাঁড়ির ওয়াশরুমে শফিকুল ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়। পরে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠান।

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।