ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • 186
184

অনলাইন ডেস্ক  : সাত কলেজের সমন্বয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুর থেকে এই অবরোধে ঢাকা শহরে তীব্র যানজটে ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা। দুপুর ১২টা থেকে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব, টেকনিক্যাল মোড়, তাঁতিবাজার মোড়, ফার্মগেট ও মহাখালী মোড়ে একযোগে সড়ক অবরোধ শুরু হয়। কোথাও কোথাও কয়েক ঘণ্টা ধরে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি, আগামী ১৫ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন–২০২৫’-এর অনুমোদন দিতে হবে এবং একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।

লালবাগ জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. আমিনুল কবীর তরফদার জানান, কবি কাজী নজরুল ইসলাম কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা বেলা সাড়ে ১১টা থেকে পুরান ঢাকার তাঁতিবাজার চৌরাস্তা অবরোধ করেন। এতে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে বাংলা কলেজের শিক্ষার্থীরা টেকনিক্যাল মোড় অবরোধ করেন। এ সময় তারা ‘সেন্ট্রাল সেন্ট্রাল’,‘গোলামী না আজাদী’, ‘আপস না সংগ্রাম’, ‘তালবাহানা বন্ধ কর, অধ্যাদেশ জারি করো’ এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

দারুসসালাম জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার ইমদাদ হোসেন বিপুল জানান, অবরোধের ফলে গাবতলী, মিরপুর ও টেকনিক্যাল মোড় এলাকায় ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়।

দুপুর ১টার দিকে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেন। এতে নিউ মার্কেট, ধানমন্ডি ও শাহবাগমুখী সব ধরনের যানবাহন আটকে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এদিকে সহপাঠী সাকিব হত্যার বিচার ও আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রথমে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং পরে রাজধানীর ব্যস্ততম ফার্মগেট মোড় অবরোধ করেন। এতে ফার্মগেট ও খামারবাড়ি এলাকায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

শিক্ষার্থীরা জানান, হত্যাকাণ্ডের এক মাস পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। অবরোধ চলাকালে ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’সহ নানা স্লোগান দেওয়া হয়। সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা মহাখালী মোড় অবরোধ করলেও তা প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে পুলিশের সহায়তায় তুলে নেওয়া হয়। পরে ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আগের বৈঠকে জানুয়ারির শুরুতেই অধ্যাদেশ জারির আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা কঠোর আন্দোলনে নেমেছেন।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট

আপডেট সময় ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
184

অনলাইন ডেস্ক  : সাত কলেজের সমন্বয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুর থেকে এই অবরোধে ঢাকা শহরে তীব্র যানজটে ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা। দুপুর ১২টা থেকে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব, টেকনিক্যাল মোড়, তাঁতিবাজার মোড়, ফার্মগেট ও মহাখালী মোড়ে একযোগে সড়ক অবরোধ শুরু হয়। কোথাও কোথাও কয়েক ঘণ্টা ধরে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি, আগামী ১৫ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন–২০২৫’-এর অনুমোদন দিতে হবে এবং একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।

লালবাগ জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. আমিনুল কবীর তরফদার জানান, কবি কাজী নজরুল ইসলাম কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা বেলা সাড়ে ১১টা থেকে পুরান ঢাকার তাঁতিবাজার চৌরাস্তা অবরোধ করেন। এতে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে বাংলা কলেজের শিক্ষার্থীরা টেকনিক্যাল মোড় অবরোধ করেন। এ সময় তারা ‘সেন্ট্রাল সেন্ট্রাল’,‘গোলামী না আজাদী’, ‘আপস না সংগ্রাম’, ‘তালবাহানা বন্ধ কর, অধ্যাদেশ জারি করো’ এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

দারুসসালাম জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার ইমদাদ হোসেন বিপুল জানান, অবরোধের ফলে গাবতলী, মিরপুর ও টেকনিক্যাল মোড় এলাকায় ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়।

দুপুর ১টার দিকে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেন। এতে নিউ মার্কেট, ধানমন্ডি ও শাহবাগমুখী সব ধরনের যানবাহন আটকে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এদিকে সহপাঠী সাকিব হত্যার বিচার ও আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রথমে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং পরে রাজধানীর ব্যস্ততম ফার্মগেট মোড় অবরোধ করেন। এতে ফার্মগেট ও খামারবাড়ি এলাকায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

শিক্ষার্থীরা জানান, হত্যাকাণ্ডের এক মাস পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। অবরোধ চলাকালে ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’সহ নানা স্লোগান দেওয়া হয়। সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা মহাখালী মোড় অবরোধ করলেও তা প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে পুলিশের সহায়তায় তুলে নেওয়া হয়। পরে ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আগের বৈঠকে জানুয়ারির শুরুতেই অধ্যাদেশ জারির আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা কঠোর আন্দোলনে নেমেছেন।