বিশেষ প্রতিবেদন :
বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী সংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে সংগঠনকে গতিশীল রাখতে ও তৃণমূল পর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করতে নতুন কমিটি গঠনে জোর আলোচনা রয়েছে। এর মধ্যে সংগঠনের শীর্ষ চার নেতাকে ডেকে কথা বলেছেন দলের হাইকমান্ড। কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে হাইকমান্ডের কাছে সম্মতি জানিয়েছেন সংগঠনের দুই শীর্ষ নেতা।
এতে দলের হাইকমান্ডও ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। তবে কবে নাগাদ কমিটি পুনর্গঠন করা হবে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে দ্রুতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংগঠনের নেতারা জানান, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াছিন আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান। হাইকমান্ডকে সংগঠনের দুই শীর্ষ নেতা কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়ে আহবান জানান। পার্টির চেয়ারম্যান বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন।
বর্তমান সভাপতি এস এম জিলানী এবং সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই সংগঠনের দায়িত্ব পালনে নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে জোরেশোরে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে রাজীব আহসান সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাঁর সময় দেওয়ার বিষয়টি সীমিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।
এমন প্রেক্ষাপটে সংগঠনকে গতিশীল রাখতে এবং তৃণমূল পর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করতে নতুন নেতৃত্ব আনার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। কমিটি পুনর্গঠন করা হলে সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে এবং আগামী রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে গত নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ প্রার্থী হন। দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়।
কমিটি পুনর্গঠন প্রসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান জানান ‘সংগঠনের কমিটি পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া।
আমাদের পার্টির চেয়ারম্যান চাইলে যেকোনো সময় কমিটি পুনর্গঠন করতে পারেন। এটা সম্পূর্ণ উনার এখতিয়ার।’ আর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক কাজী মোক্তার হোসেন, ‘ত্যাগের বিবেচনায় কমিটিতে মূল্যায়ন হলে নেতৃত্ব টিকে থাকবে। নানা ক্রাইটেরিয়ায় কমিটি থেকে বাদ পড়লে আমাদের তিন জেনারেশন গ্যাপ হয়ে যায়। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যাঁরা আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন তাঁদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হলে সংগঠনে গতিশীলতা ফিরে আসবে।’
স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে, আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান অবশ্যই আওয়ামী দুঃশাসনবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে যাঁরা ভূমিকা রেখেছেন, নির্যাতিত নিপীড়িত হয়েছেন এবং তৃণমূল সংগঠিত করে সংগঠনকে আরো গতিশীল করতে পারবেন, তাঁদেরকে তিনি মূল্যায়ন করবেন।’ দলটির সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াছিন আলী বলেন, ‘সংগঠনকে গতিশীল করার জন্য আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। কিছু কমিটি ঘোষণা বাকি আছে, সেগুলোও নিয়ে আমরা কথা বলেছি।’, ‘নতুন কমিটি গঠন প্রসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান বলেন, ‘আমরা যত দিন দায়িত্বে আছি তত দিন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাব। দল যদি নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসে, আমরা তাঁকে স্বাগত জানাব।শীর্ষ পদে আলোচনায় যাঁরা : ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এস এম জিলানীকে সভাপতি ও রাজীব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠন করা হয়। তিন বছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। কমিটি পুনর্গঠনে আলোচনা শুরু হলে নতুন কমিটির শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে নানা সমীকরণ তৈরি হয়। সংগঠনের মধ্য থেকেই নতুন কমিটি গঠনে হবে, নাকি সংগঠনের বাইরে থেকে অঙ্গদল থেকে নেতৃত্ব আসবে, এ নিয়েও জোর আলোচনা আছে। নানা সমীকরণে শীর্ষ পদে আলোচনায় আছেন সভাপতি পদে বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসীন আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন প্রমুখ। সাধারণ সম্পাদক পদে স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক কাজী মোক্তার হোসেন, উত্তরের সভাপতি শেখ ফরিদ, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক পাপ্পা শিকদার আলোচনায় আছেন। এ ছাড়া বর্তমান কমিটির গোলাম মোরশেদ রাসেল, আবদুল রহিম হাওলাদার, নুরুল হুদা বাবুও ‘সুপার ফাইভে’ আলোচনায় আছেন। এ ছাড়া সংগঠনের বাইরে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে একাধিক নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। তাঁদের থেকেও সেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আসতে পারেন এমনটা জানিয়েছেন সংগঠনের একাধিক নেতা। গোলাম মোরশেদ রাসেল, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং সবসময় নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন। ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন তিনি। রাসেল জানান, দলীয় বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, “আমি সবসময় আন্দোলনে থাকা নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছি এবং যারা কারাভোগ করেছেন তাদের দুঃখ-সুখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।” এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গেও নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে গোলাম মোর্শেদ রাসেল । এ নিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে শিক্ষা উন্নয়নে কাজ করেছেন এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগেও সম্পৃক্ত ছিলেন। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি দেশ নায়ক তারেক রহমানের হয়ে তৃনমূলে কাজ করেছেন । এর আগে ২০১৮ সালেও তিনি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে দাবি করেন।
এছাড়া তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “উপরোক্ত কার্যক্রমগুলোর মূল্যায়ন করে দল আমাকে জাতীয়তাবদী স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি ভালো পর্যায়ে রাখবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।” গোলাম মোর্শেদ রাসেলের মতে, “দলের আদর্শ বাস্তবায়ন এবং জনগণের সেবা করাই তার মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও দলের জন্য কাজ করে যেতে চান তিনি ।” স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সক্রিয়তা ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ডেস্ক : 



















বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ : গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা