ঢাকা , শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নিজে টিকিট কেটে ট্রেনে চড়ে পদ্মা সেতু পার হলেন প্রধানমন্ত্রী

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩
  • 82

সিনিয়র রিপোর্টার : মুন্সীগঞ্জের মাওয়া রেল স্টেশনে ঢাকা-ভাঙ্গা রেল চলাচল উদ্বোধন শেষে মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) তার সফর সঙ্গীদের নিয়ে নিজে টিকিট কেটে ট্রেনে চড়ে পদ্মা সেতু পার হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিকালে তিনি ভাঙ্গা রেলওয়ে জংশনে নেমে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ডা. কাজী ইউসুফ স্টেডিয়ামে এক জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আংশিক উদ্বোধনে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের আরও একটি স্বপ্ন পূরণ হলো। দক্ষিণাঞ্চলে নতুন এই দুয়ার খোলার ঘোষণার পরই মাওয়া থেকে ভাঙ্গার উদ্দেশে ছুটে চলে বিশেষ ট্রেন। তাতে প্রথম যাত্রী হিসেবে টিকিট কাটেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা ও নাতি-নাতনিরা। টিকিট কাটার পর প্রধানমন্ত্রী নিজেই হুইসেল (বাঁশি) বাজান এবং সংকেত দেন ট্রেন ছাড়ার। আর মাওয়া প্রান্ত থেকে ভাঙ্গার উদ্দেশে ট্রেনও ছুটে চলে। দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে ট্রেনটি ভাঙ্গায় পৌঁছে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্বপ্নের পদ্মা সেতু হয়ে রেল চলাচলের মাহেন্দ্রক্ষণকে ‘স্বপ্ন পূরণের দিন হিসেবে’ অভিহিত করেছেন। পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার রেলপথ। শেষ হয়েছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার রেলপথের কাজ। এ অংশের উদ্বোধনের এক সপ্তাহ পর বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হবে। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক ট্রেন চালানোর প্রাথমিক পদক্ষেপ সম্পন্ন করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

পদ্মা সেতুতে রেল চলাচল উদ্বোধন হওয়ায় এ অঞ্চলে যোগাযোগের নবদিগন্ত উন্মোচিত হলো। এ উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সাজানো হয় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে ভাঙ্গা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত একাধিকবার যাত্রী ও মালবাহী ট্রেনের ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে মাওয়া থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত অন্তত ৬ বার ১০ কোচের একটি ট্রেনের ট্রায়াল হয়েছে। সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানো হয়েছে এই রুটে।

বিকেল ৪টায় ভাঙ্গা থেকে গোপালগঞ্জ যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সাড়ে ৫টায় টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাতে টুঙ্গিপাড়ায় নিজ বাড়িতে থাকবেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই রেলে আমূল পরিবর্তন আসছে। ১০ অক্টোবর মাওয়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকা-ভাঙ্গা রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীবাহী ট্রেন উদ্বোধন করবেন তিনি। উদ্বোধনের কিছুদিনের মধ্যেই ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার রুটে পুরোদমে যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক ট্রেন চালানো হবে। মোংলা বন্দরকে যুক্ত করা এই রেলপথ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। আমরা পর্যায়ক্রমে ৬৪ জেলাকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসব।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

লোকসভা নির্বাচন-২০২৪ : ভোটের আগে বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন কর্ণাটকের সাবেক মন্ত্রী

নিজে টিকিট কেটে ট্রেনে চড়ে পদ্মা সেতু পার হলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩

সিনিয়র রিপোর্টার : মুন্সীগঞ্জের মাওয়া রেল স্টেশনে ঢাকা-ভাঙ্গা রেল চলাচল উদ্বোধন শেষে মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) তার সফর সঙ্গীদের নিয়ে নিজে টিকিট কেটে ট্রেনে চড়ে পদ্মা সেতু পার হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিকালে তিনি ভাঙ্গা রেলওয়ে জংশনে নেমে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ডা. কাজী ইউসুফ স্টেডিয়ামে এক জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আংশিক উদ্বোধনে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের আরও একটি স্বপ্ন পূরণ হলো। দক্ষিণাঞ্চলে নতুন এই দুয়ার খোলার ঘোষণার পরই মাওয়া থেকে ভাঙ্গার উদ্দেশে ছুটে চলে বিশেষ ট্রেন। তাতে প্রথম যাত্রী হিসেবে টিকিট কাটেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা ও নাতি-নাতনিরা। টিকিট কাটার পর প্রধানমন্ত্রী নিজেই হুইসেল (বাঁশি) বাজান এবং সংকেত দেন ট্রেন ছাড়ার। আর মাওয়া প্রান্ত থেকে ভাঙ্গার উদ্দেশে ট্রেনও ছুটে চলে। দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে ট্রেনটি ভাঙ্গায় পৌঁছে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্বপ্নের পদ্মা সেতু হয়ে রেল চলাচলের মাহেন্দ্রক্ষণকে ‘স্বপ্ন পূরণের দিন হিসেবে’ অভিহিত করেছেন। পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার রেলপথ। শেষ হয়েছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার রেলপথের কাজ। এ অংশের উদ্বোধনের এক সপ্তাহ পর বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হবে। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক ট্রেন চালানোর প্রাথমিক পদক্ষেপ সম্পন্ন করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

পদ্মা সেতুতে রেল চলাচল উদ্বোধন হওয়ায় এ অঞ্চলে যোগাযোগের নবদিগন্ত উন্মোচিত হলো। এ উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সাজানো হয় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে ভাঙ্গা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত একাধিকবার যাত্রী ও মালবাহী ট্রেনের ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে মাওয়া থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত অন্তত ৬ বার ১০ কোচের একটি ট্রেনের ট্রায়াল হয়েছে। সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানো হয়েছে এই রুটে।

বিকেল ৪টায় ভাঙ্গা থেকে গোপালগঞ্জ যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সাড়ে ৫টায় টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাতে টুঙ্গিপাড়ায় নিজ বাড়িতে থাকবেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই রেলে আমূল পরিবর্তন আসছে। ১০ অক্টোবর মাওয়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকা-ভাঙ্গা রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীবাহী ট্রেন উদ্বোধন করবেন তিনি। উদ্বোধনের কিছুদিনের মধ্যেই ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার রুটে পুরোদমে যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক ট্রেন চালানো হবে। মোংলা বন্দরকে যুক্ত করা এই রেলপথ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। আমরা পর্যায়ক্রমে ৬৪ জেলাকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসব।