ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হাইকোর্টের আদেশ আমান্য করায় বিচারকের কারাদণ্ড

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৩
  • 55

সিনিয়র রিপোর্টার : হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করায় কুমিল্লার জেলা জজ সোহেল রানাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এই বিচারককে সাত দিনের মধ্যে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে একটি মামলার কাজ পরিচালনার ঘটনায় আদালত অবমাননার কারণে বিচারক মো. সোহেল রানাকে এ শাস্তি দেওয়া হয়।

আজ বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) বিচারপতি মো. বদরুজ্জামান ও বিচারপতি মাসুদ হাসান দোলনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।

আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী প্রণয় কান্তি রায়। সোহেল রানার পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক। রায়ের পর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এ আদেশের পরে ওই বিচারক জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উচ্চ আদালত তাকে আপিলের শর্তে ৩০ দিনের জামিন দিয়েছেন।

জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৭ মার্চ কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনে মামুন চৌধুরী ও রিয়া আক্তার দম্পতির বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। মামলাটির কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে তারা হাইকোর্টে একটি আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করে মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত করেন। এই স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও কুমিল্লার তৎকালীন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা গত ১০ এপ্রিল মামলায় অভিযোগ গঠন করেন। উচ্চ আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে বিচার কাজ পরিচালনার বিষয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন মামুন। পরে চলতি বছরের ১৪ আগস্ট হাইকোর্ট সোহেল রানাকে তলব করে অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গত ২১ আগস্ট হাজির হতে বলেন। ধার্য তারিখে সোহেল রানা হাইকোর্টে হাজির হন এবং পরবর্তীতে জবাব দাখিল করেন।

জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় গত ২৮ আগস্ট সোহেল রানার প্রতি স্বপ্রণোদিত আদালত অবমাননার রুল দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি (৯ অক্টোবর) তাকে হাইকোর্টে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে (৯ নভেম্বর) সোহেল রানা সময়ের আর্জি জানালে (১২ অক্টোবর) পরবর্তী তারিখ রাখেন হাইকোর্ট। আদালত অবমাননার রুলের পরিপ্রেক্ষিতে সোহেল রানা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তার ক্ষমাপ্রার্থনা গ্রহণ না করে হাইকোর্ট বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইনজীবী প্রণয় কান্তি রায় বলেন, সোহেল রানা নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছিলেন। কিন্তু তার নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা গ্রহণ না করে তাকে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোহেল রানা বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত জেলা জজ হিসেবে সংযুক্ত আছেন।  

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে

হাইকোর্টের আদেশ আমান্য করায় বিচারকের কারাদণ্ড

আপডেট সময় ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৩

সিনিয়র রিপোর্টার : হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করায় কুমিল্লার জেলা জজ সোহেল রানাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এই বিচারককে সাত দিনের মধ্যে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে একটি মামলার কাজ পরিচালনার ঘটনায় আদালত অবমাননার কারণে বিচারক মো. সোহেল রানাকে এ শাস্তি দেওয়া হয়।

আজ বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) বিচারপতি মো. বদরুজ্জামান ও বিচারপতি মাসুদ হাসান দোলনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।

আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী প্রণয় কান্তি রায়। সোহেল রানার পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক। রায়ের পর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এ আদেশের পরে ওই বিচারক জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উচ্চ আদালত তাকে আপিলের শর্তে ৩০ দিনের জামিন দিয়েছেন।

জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৭ মার্চ কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনে মামুন চৌধুরী ও রিয়া আক্তার দম্পতির বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। মামলাটির কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে তারা হাইকোর্টে একটি আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করে মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত করেন। এই স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও কুমিল্লার তৎকালীন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা গত ১০ এপ্রিল মামলায় অভিযোগ গঠন করেন। উচ্চ আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে বিচার কাজ পরিচালনার বিষয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন মামুন। পরে চলতি বছরের ১৪ আগস্ট হাইকোর্ট সোহেল রানাকে তলব করে অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গত ২১ আগস্ট হাজির হতে বলেন। ধার্য তারিখে সোহেল রানা হাইকোর্টে হাজির হন এবং পরবর্তীতে জবাব দাখিল করেন।

জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় গত ২৮ আগস্ট সোহেল রানার প্রতি স্বপ্রণোদিত আদালত অবমাননার রুল দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি (৯ অক্টোবর) তাকে হাইকোর্টে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে (৯ নভেম্বর) সোহেল রানা সময়ের আর্জি জানালে (১২ অক্টোবর) পরবর্তী তারিখ রাখেন হাইকোর্ট। আদালত অবমাননার রুলের পরিপ্রেক্ষিতে সোহেল রানা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তার ক্ষমাপ্রার্থনা গ্রহণ না করে হাইকোর্ট বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইনজীবী প্রণয় কান্তি রায় বলেন, সোহেল রানা নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছিলেন। কিন্তু তার নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা গ্রহণ না করে তাকে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোহেল রানা বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত জেলা জজ হিসেবে সংযুক্ত আছেন।