ঢাকা , সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দ্রুত তিস্তা চুক্তি সম্পন্ন করতে চায় বাংলাদেশ

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৬:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৩
  • 43

সিনিয়র রিপোর্টার : তিস্তা চুক্তি এবং অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্রসচিবরা।

গত শুক্রবার বিকালে ভারতের নয়াদিল্লিতে হায়দ্রাবাদ হাউসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করেন তারা। এ সময় বাংলাদেশ-ভারত ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের ওপর থেকে বাণিজ্য বাধা অপসারণ এবং দুই দেশের মধ্যে প্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের ওপর জোর দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বিনয় মোহন কোয়াত্রা বৈঠকে তাদের নিজ নিজ পক্ষের নেতৃত্ব দেন। বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতার ব্যাপক দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এফওসি সম্পর্কে নয়াদিল্লি ও ঢাকায় পৃথক বিবৃতি দিয়েছে। এফওসি হচ্ছে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব বিষয় পর্যালোচনা করার জন্য পররাষ্ট্র সচিবদের মধ্যে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংলাপ প্রক্রিয়া।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব তার প্রতিপক্ষকে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও গভীর ও প্রসারিত করার অনুরোধ করেছেন এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ভারতের সহায়তা চেয়েছেন। উভয়পক্ষ দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের জনগণের বৃহত্তর সমৃদ্ধির জন্য সহযোগিতা আরও গভীর করার ওপর জোর দিয়েছে।

ভারতের জি-২০ প্রেসিডেন্সির অধীনে একমাত্র দক্ষিণ এশিয়ার নেতা হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে জি-২০ লিডারস সামিটে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব। উভয় পররাষ্ট্র সচিব বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং ২০২৩ সালে অর্জিত অগ্রগতির বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

দুই প্রধানমন্ত্রীর দ্বারা সংযোগ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য সম্প্রতি কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। এ বিষয়ে তারা বলেন, এই ধরনের সহযোগিতা শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বাস্তব ফলাফলকে প্রতিফলিত করে। দুই পররাষ্ট্র সচিব উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য, আঞ্চলিক সংযোগ, আঞ্চলিক পাওয়ার গ্রিড সংযোগ, নিরাপত্তা ও পানি সংক্রান্ত সমস্যা, কনস্যুলার এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা বাংলাদেশের উত্তরণের পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার বিষয়েও আলোচনা করেন। উভয়পক্ষ পুনর্ব্যক্ত করেছে, দুটি দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী একটি শান্তিপূর্ণ সীমান্ত বজায় রাখতে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। এ বছর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এটি ছিল দ্বিতীয় ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি)। প্রথমটি গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

দ্রুত তিস্তা চুক্তি সম্পন্ন করতে চায় বাংলাদেশ

আপডেট সময় ০৬:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৩

সিনিয়র রিপোর্টার : তিস্তা চুক্তি এবং অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্রসচিবরা।

গত শুক্রবার বিকালে ভারতের নয়াদিল্লিতে হায়দ্রাবাদ হাউসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করেন তারা। এ সময় বাংলাদেশ-ভারত ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের ওপর থেকে বাণিজ্য বাধা অপসারণ এবং দুই দেশের মধ্যে প্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের ওপর জোর দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বিনয় মোহন কোয়াত্রা বৈঠকে তাদের নিজ নিজ পক্ষের নেতৃত্ব দেন। বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতার ব্যাপক দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এফওসি সম্পর্কে নয়াদিল্লি ও ঢাকায় পৃথক বিবৃতি দিয়েছে। এফওসি হচ্ছে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব বিষয় পর্যালোচনা করার জন্য পররাষ্ট্র সচিবদের মধ্যে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংলাপ প্রক্রিয়া।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব তার প্রতিপক্ষকে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও গভীর ও প্রসারিত করার অনুরোধ করেছেন এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ভারতের সহায়তা চেয়েছেন। উভয়পক্ষ দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের জনগণের বৃহত্তর সমৃদ্ধির জন্য সহযোগিতা আরও গভীর করার ওপর জোর দিয়েছে।

ভারতের জি-২০ প্রেসিডেন্সির অধীনে একমাত্র দক্ষিণ এশিয়ার নেতা হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে জি-২০ লিডারস সামিটে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব। উভয় পররাষ্ট্র সচিব বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং ২০২৩ সালে অর্জিত অগ্রগতির বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

দুই প্রধানমন্ত্রীর দ্বারা সংযোগ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য সম্প্রতি কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। এ বিষয়ে তারা বলেন, এই ধরনের সহযোগিতা শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বাস্তব ফলাফলকে প্রতিফলিত করে। দুই পররাষ্ট্র সচিব উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য, আঞ্চলিক সংযোগ, আঞ্চলিক পাওয়ার গ্রিড সংযোগ, নিরাপত্তা ও পানি সংক্রান্ত সমস্যা, কনস্যুলার এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা বাংলাদেশের উত্তরণের পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার বিষয়েও আলোচনা করেন। উভয়পক্ষ পুনর্ব্যক্ত করেছে, দুটি দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী একটি শান্তিপূর্ণ সীমান্ত বজায় রাখতে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। এ বছর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এটি ছিল দ্বিতীয় ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি)। প্রথমটি গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।