ঢাকা , সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কাদের : বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিলে গণতান্ত্রিকভাবে কিছু বলার নেই

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৪:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৩
  • 37

সিনিয়র রিপোর্টার : বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে আসা অপরাধ নয় উল্লেখ করে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কেউ বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিলে গণতান্ত্রিকভাবে কিছু বলার নেই। শাহজাহান ওমর অনুপ্রবেশকারী নয়। শাজাহান ওমরের মতো অনেকেই ভেতরে ভেতরে বলছেন জীবনেও আর বিএনপি করবো না। বিএনপির কেউ দল পরিবর্তন করলে, সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। কাউকে ব্ল্যাকমেইল করে নির্বাচনে আনা হচ্ছে না। তাছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হেভিওয়েট প্রার্থীকে ফেলে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে গেলে সেটাকে বাঁধা দেওয়া গণতন্ত্র নয়। প্রার্থী স্বতন্ত্র হোক বা দল মনোনীত যে কোনো প্রার্থী নির্বাচন করুক, জনগণ নির্বাচনে ভোট দিলে যাচাই হবে- এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

শনিবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।  

নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার এখন রুটিন ওয়ার্ক করবে। কমিশনের ব্যবস্থা আমাদের বিরুদ্ধে গেলেও তাকে আওয়ামী লীগ সাধুবাদ জানাবে। নির্বাচন সংক্রান্ত সারাদেশে যে কোনো ঘটনার বিষয়ে প্রশাসনিক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত তথ্য নেওয়ার এখতিয়ার এখন নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন সংক্রান্ত কোথাও কোন সংঘাত, বিশৃঙ্খলা হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পুরো দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সকল সিদ্ধান্তের বিষয়ে আওয়ামী লীগের পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। তাই কমিশন যে সিদ্ধান্ত নিবে আওয়ামী লীগ তা মেনে নিবে।

কোনো দলকে ভেঙ্গে দেওয়া আওয়ামী লীগের নীতি নয় উল্লেখ করে কাদের বলেন, বিএনপি’র চলমান একদফা দাবি গভীর গর্তে পড়ে গেছে। তাদের আন্দোলন ভুলের চোরাবালিতে আটকে গেছে। নেতা-কর্মীরা বিএনপির ডাকে ভবিষ্যতে আন্দোলনের মাঠে নামবে কিনা- এটাই সন্দেহ। বিএনপির সর্বনাশা ভুলনীতির জন্য দলে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে।

তৃণমূল বিএনপির সবাই বিএনপির লোক উল্লেখ করে কাদের বলেন, বিএনপির নেতৃত্বের ওপর হতাশ হয়ে অনেকেই নির্বাচন করেছেন। ২৯টি দল নির্বাচনমুখী, বিএনপিসহ ১৪/১৫টি দল নির্বাচনের বাইরে। নির্বাচনে জনগণের উৎসব-উদ্দীপনা দেখে মনে হচ্ছে বিপুল সংখ্যক ভোটার উপস্থিতি আসবে। বিএনপির ষড়যন্ত্রের কালোহাত জনগণই ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে ভেঙে দেবে।

জনগণ নির্বাচনমুখী উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, কিছু কিছু দল নির্বাচন বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকলেও জনগণ নির্বাচনমুখী। আন্দোলনের নামে কিছু দল নির্বাচন ঠেকাতে চেয়েছে এখনও চাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষকে নির্বাচন থেকে বাঁধা দেওয়া যায়নি। দেশের জনগণ ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছে। তারাই বিএনপিকে প্রতিহত করবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের সাথে ভারতকে জড়িয়ে প্রোপাগাণ্ডা পাকিস্তান আমল থেকে শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আসলে ভারত আওয়ামী লীগকে জড়িয়ে প্রোপাগাণ্ডা হয়- এটা নিয়ে আওয়ামী লীগ চিন্তিত নয়। এদিকে আইআরআই এর সমীক্ষা বলেছে ৭০ শতাংশ লোক শেখ হাসিনার পক্ষে। বিএনপি ভুল রাজনীতির কারণে তারা জনসমর্থন হারিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক ও সুজিত রায় নন্দী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী, আনোয়ার হোসেন ও নির্মল চ্যাটাজী প্রমুখ।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

কাদের : বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিলে গণতান্ত্রিকভাবে কিছু বলার নেই

আপডেট সময় ০৪:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৩

সিনিয়র রিপোর্টার : বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে আসা অপরাধ নয় উল্লেখ করে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কেউ বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিলে গণতান্ত্রিকভাবে কিছু বলার নেই। শাহজাহান ওমর অনুপ্রবেশকারী নয়। শাজাহান ওমরের মতো অনেকেই ভেতরে ভেতরে বলছেন জীবনেও আর বিএনপি করবো না। বিএনপির কেউ দল পরিবর্তন করলে, সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। কাউকে ব্ল্যাকমেইল করে নির্বাচনে আনা হচ্ছে না। তাছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হেভিওয়েট প্রার্থীকে ফেলে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে গেলে সেটাকে বাঁধা দেওয়া গণতন্ত্র নয়। প্রার্থী স্বতন্ত্র হোক বা দল মনোনীত যে কোনো প্রার্থী নির্বাচন করুক, জনগণ নির্বাচনে ভোট দিলে যাচাই হবে- এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

শনিবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।  

নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার এখন রুটিন ওয়ার্ক করবে। কমিশনের ব্যবস্থা আমাদের বিরুদ্ধে গেলেও তাকে আওয়ামী লীগ সাধুবাদ জানাবে। নির্বাচন সংক্রান্ত সারাদেশে যে কোনো ঘটনার বিষয়ে প্রশাসনিক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত তথ্য নেওয়ার এখতিয়ার এখন নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন সংক্রান্ত কোথাও কোন সংঘাত, বিশৃঙ্খলা হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পুরো দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সকল সিদ্ধান্তের বিষয়ে আওয়ামী লীগের পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। তাই কমিশন যে সিদ্ধান্ত নিবে আওয়ামী লীগ তা মেনে নিবে।

কোনো দলকে ভেঙ্গে দেওয়া আওয়ামী লীগের নীতি নয় উল্লেখ করে কাদের বলেন, বিএনপি’র চলমান একদফা দাবি গভীর গর্তে পড়ে গেছে। তাদের আন্দোলন ভুলের চোরাবালিতে আটকে গেছে। নেতা-কর্মীরা বিএনপির ডাকে ভবিষ্যতে আন্দোলনের মাঠে নামবে কিনা- এটাই সন্দেহ। বিএনপির সর্বনাশা ভুলনীতির জন্য দলে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে।

তৃণমূল বিএনপির সবাই বিএনপির লোক উল্লেখ করে কাদের বলেন, বিএনপির নেতৃত্বের ওপর হতাশ হয়ে অনেকেই নির্বাচন করেছেন। ২৯টি দল নির্বাচনমুখী, বিএনপিসহ ১৪/১৫টি দল নির্বাচনের বাইরে। নির্বাচনে জনগণের উৎসব-উদ্দীপনা দেখে মনে হচ্ছে বিপুল সংখ্যক ভোটার উপস্থিতি আসবে। বিএনপির ষড়যন্ত্রের কালোহাত জনগণই ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে ভেঙে দেবে।

জনগণ নির্বাচনমুখী উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, কিছু কিছু দল নির্বাচন বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকলেও জনগণ নির্বাচনমুখী। আন্দোলনের নামে কিছু দল নির্বাচন ঠেকাতে চেয়েছে এখনও চাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষকে নির্বাচন থেকে বাঁধা দেওয়া যায়নি। দেশের জনগণ ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছে। তারাই বিএনপিকে প্রতিহত করবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের সাথে ভারতকে জড়িয়ে প্রোপাগাণ্ডা পাকিস্তান আমল থেকে শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আসলে ভারত আওয়ামী লীগকে জড়িয়ে প্রোপাগাণ্ডা হয়- এটা নিয়ে আওয়ামী লীগ চিন্তিত নয়। এদিকে আইআরআই এর সমীক্ষা বলেছে ৭০ শতাংশ লোক শেখ হাসিনার পক্ষে। বিএনপি ভুল রাজনীতির কারণে তারা জনসমর্থন হারিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক ও সুজিত রায় নন্দী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী, আনোয়ার হোসেন ও নির্মল চ্যাটাজী প্রমুখ।