ঢাকা , রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দেশীয় খেলাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৪:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • 29

সিনিয়র রিপোর্টার : দেশীয় খেলাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, লেখাপড়ারর পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে ছেলেমেয়েদের শরীর চর্চা যেমন হয় তেমনি মনমানসিকতা উদার হয়, ঐক্যের বন্ধন তৈরি হয়। তাই আমাদের দেশীয় খেলাগুলো যেন হারিয়ে না যায় তার জন্য সবাই মিলে উদ্যোগ নিতে হবে।

বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে রাজশাহীর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে আয়োজিত ৫২তম শীতকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশের ৮টি বিভাগে ৮টি বিকেএসপি তৈরির ঘোষণা দেন।

সারাদেশ থেকে অংশ নেওয়া বিজয়ী প্রতিযোগীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা মেধাবী। সুযোগ করে দিলে তারা আরো ভালো করতে পারবে। সব ধরনের খেলাকে আমাদের হাতে আনতে হবে। আমাদের কিছু দেশীয় খেলা, সেই ডাংগুলি থেকে শুরু করে, বিভিন্ন খেলাধুলা আগে প্রচলিত ছিল। সেগুলো আমাদের আবার চালু করা উচিত। আমাদের নিজস্ব দেশীয় খেলাগুলো, হাডুডু থেকে শুরু করে সবগুলো খেলা সক্রিয় রাখতে উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের ছেলে-মেয়েরাসহ সবাই মিলে উদ্যোগ নেবেন যেন দেশীয় খেলাগুলো হারিয়ে না যায়।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা নিজেই খেলাধুলার প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন। জাতির পিতার উদ্যোগে স্বাধীনতার পর এই শীতকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। আমাদের পরিবার সবসময় খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত ছিল। আমার দাদা নিজেই ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন, আমার বাবাও ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন এবং আমার ভাই জামাল, কামাল, রাসেল সবাই স্পোর্টসের সঙ্গে জড়িত ছিল। এমনকি কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লু উপাধি পেয়েছিল। জামালের স্ত্রী পারভীন জামালও খেলাধুলার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। খেলাধুলার উন্নতি করাই আমাদের লক্ষ্য। আমি মনে করি, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে বলে আমাদের ছেলে-মেয়েরা খেলাধুলার ব্যাপক সুযোগ পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায় পর্যন্ত তাদের দক্ষতার প্রমাণ রাখতে পারছে।

তিনি বলেন, ভালো খেলোয়াড় গড়ে তোলার জন্য ভালো প্রশিক্ষক তৈরি করতে হবে। খেলাধুলায় মেয়েরা ইদানিং বেশ এগিয়েছে। ছোটবেলা থেকেই প্রশিক্ষণ দিতে পারলে ছেলেমেয়েরা আরও ভালো করবে। তাই প্রত্যেক বিভাগে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) তৈরি করা হবে। যেন সারাবছরই ছেলে-মেয়েরা কোনো না কোনো খেলার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।

দেশীয় খেলাকে আরও আকর্ষণীয় করতে হবে। খেলাধুলার মধ্য দিয়ে ঐক্যের বন্ধন দৃঢ় শরীরচর্চা হয়। মাধ্যমিক পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সমর্থন করি। আন্তঃস্কুল, আন্তঃকলেজ, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতার চর্চা করা প্রয়োজন। বিদেশেও ছেলেমেয়েরা খেলাধুলায় ভালো অর্জন করছে।

প্রসঙ্গত- ৫২তম শীতকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দৌড়, চাকতি ও বর্শা নিপে, উচ্চলম্ফ ও দীর্ঘ লম্ফের মতো একক প্রতিযোগিতা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে ক্রিকেট, হকি ও সাইকিং-এর মতো দলীয় প্রতিযোগিতা। উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা, উপ-অঞ্চল ও অঞ্চল পর্যায়ে বিজয়ী হয়ে প্রতিযোগীরা এই প্রতিযোগিতায় যোগ দিয়েছেন।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

র‌্যাবকে যেসব নির্দেশনা দিলেন নতুন ডিজি

দেশীয় খেলাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় ০৪:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

সিনিয়র রিপোর্টার : দেশীয় খেলাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, লেখাপড়ারর পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে ছেলেমেয়েদের শরীর চর্চা যেমন হয় তেমনি মনমানসিকতা উদার হয়, ঐক্যের বন্ধন তৈরি হয়। তাই আমাদের দেশীয় খেলাগুলো যেন হারিয়ে না যায় তার জন্য সবাই মিলে উদ্যোগ নিতে হবে।

বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে রাজশাহীর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে আয়োজিত ৫২তম শীতকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশের ৮টি বিভাগে ৮টি বিকেএসপি তৈরির ঘোষণা দেন।

সারাদেশ থেকে অংশ নেওয়া বিজয়ী প্রতিযোগীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা মেধাবী। সুযোগ করে দিলে তারা আরো ভালো করতে পারবে। সব ধরনের খেলাকে আমাদের হাতে আনতে হবে। আমাদের কিছু দেশীয় খেলা, সেই ডাংগুলি থেকে শুরু করে, বিভিন্ন খেলাধুলা আগে প্রচলিত ছিল। সেগুলো আমাদের আবার চালু করা উচিত। আমাদের নিজস্ব দেশীয় খেলাগুলো, হাডুডু থেকে শুরু করে সবগুলো খেলা সক্রিয় রাখতে উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের ছেলে-মেয়েরাসহ সবাই মিলে উদ্যোগ নেবেন যেন দেশীয় খেলাগুলো হারিয়ে না যায়।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা নিজেই খেলাধুলার প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন। জাতির পিতার উদ্যোগে স্বাধীনতার পর এই শীতকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। আমাদের পরিবার সবসময় খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত ছিল। আমার দাদা নিজেই ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন, আমার বাবাও ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন এবং আমার ভাই জামাল, কামাল, রাসেল সবাই স্পোর্টসের সঙ্গে জড়িত ছিল। এমনকি কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লু উপাধি পেয়েছিল। জামালের স্ত্রী পারভীন জামালও খেলাধুলার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। খেলাধুলার উন্নতি করাই আমাদের লক্ষ্য। আমি মনে করি, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে বলে আমাদের ছেলে-মেয়েরা খেলাধুলার ব্যাপক সুযোগ পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায় পর্যন্ত তাদের দক্ষতার প্রমাণ রাখতে পারছে।

তিনি বলেন, ভালো খেলোয়াড় গড়ে তোলার জন্য ভালো প্রশিক্ষক তৈরি করতে হবে। খেলাধুলায় মেয়েরা ইদানিং বেশ এগিয়েছে। ছোটবেলা থেকেই প্রশিক্ষণ দিতে পারলে ছেলেমেয়েরা আরও ভালো করবে। তাই প্রত্যেক বিভাগে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) তৈরি করা হবে। যেন সারাবছরই ছেলে-মেয়েরা কোনো না কোনো খেলার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।

দেশীয় খেলাকে আরও আকর্ষণীয় করতে হবে। খেলাধুলার মধ্য দিয়ে ঐক্যের বন্ধন দৃঢ় শরীরচর্চা হয়। মাধ্যমিক পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সমর্থন করি। আন্তঃস্কুল, আন্তঃকলেজ, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতার চর্চা করা প্রয়োজন। বিদেশেও ছেলেমেয়েরা খেলাধুলায় ভালো অর্জন করছে।

প্রসঙ্গত- ৫২তম শীতকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দৌড়, চাকতি ও বর্শা নিপে, উচ্চলম্ফ ও দীর্ঘ লম্ফের মতো একক প্রতিযোগিতা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে ক্রিকেট, হকি ও সাইকিং-এর মতো দলীয় প্রতিযোগিতা। উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা, উপ-অঞ্চল ও অঞ্চল পর্যায়ে বিজয়ী হয়ে প্রতিযোগীরা এই প্রতিযোগিতায় যোগ দিয়েছেন।