ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন : আমাদের প্রতিষ্ঠান জবর দখল হয়েছে : ভয়ংকর পরিস্থিতিতে আছি

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৫:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • 45

অনলাইন ডেস্ক  : গ্রামীণ টেলিকমসহ নিজেদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জবর দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, গ্রামীণ ব্যাংক তাদের আটটি প্রতিষ্ঠান জবর দখল করে নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান তাদের মতো করে চালাচ্ছে। পুলিশের কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইলেও সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

রাজধানীর মিরপুরে গ্রামীণ টেলিকম ভবনে বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় অন্যদের মধ্যে গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল ইসলাম, গ্রামীণ কল্যাণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একে এম মঈনুদ্দিন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, ঢাকার মিরপুর ১ নম্বরে চিড়িয়াখানা সড়কে গ্রামীণ টেলিকম ভবন। এ ভবনে ড. ইউনূসের ১৬ টি কোম্পানি রয়েছে। যার প্রতিটির চেয়ারম্যান তিনি। গত ১২ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ ভবনে অবস্থিত আটটি অফিস দখল করে নেওয়া হয়েছে বলে আজকের সংবাদ সম্মেলনে জানান অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, ‘ওই দিন থেকে তারা ভবনে তালা মেরে রেখেছে। নিজের বাড়িতে অন্য কেউ যদি তালা মারে তখন কেমন লাগার কথা আপনারাই বলেন। তাহলে দেশে আইন আদালত আছে কিসের জন্য। তারা আদালতে যেতে চায় না। আমরা জীবনে বহু দুর্যোগ দেখেছি। এমন দুর্যোগ আর কখনো দেখিনি।’ ড. ইউনূস বলেন, এভাবে দেশ চলছে কীভাবে। আমাদের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল হচ্ছে। এ বিষয়ে আদালতে শরণাপন্ন  হবেন বলেও জানান তিনি। এর আগে সকালে ড. ইউনূসের সংবাদ সম্মেলনের কথা শুনে মিরপুরে ঝাড়ু মিছিল বের হয়। আইন মেনেই এসব প্রতিষ্ঠান করা হয়েছে জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ব্যবসার মুনাফার টাকায় এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। গ্রামীণ ব্যাংকের টাকায় হয়নি। যা হয়েছে আইন মেনে হয়েছে বলে জানান তিনি। 

‘ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে আছি’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এ ভবনটা আমরা করেছি, এটা আমাদের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। হঠাৎ চার দিন আগে বাইরের লোক এসে জবরদখল শুরু করে। আর আমরাই বাইরের লোক হয়ে গেলাম। আমাদের সব অফিসের প্রধান কার্যালয় এটি। দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য এখান থেকে কাজ করা হয়।’

গ্রামীণ কল্যাণের কর্মীরা জানান, আজ সকাল থেকে গ্রামীণ টেলিকম ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছে কিছু লোক, সঙ্গে ঝাড়ু নিয়ে কিছু নারীও উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত কাউকে এমনকি ভবন পরিদর্শনে আসা কাউকেও ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না। এর আগে গত কয়েক দিন, ২০ জনের একটি দল এই ভবন দখলের চেষ্টা চালিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এ দিকে বুধবার মোবাইল ফোনে কল করে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা পরিচয়ে বেশ কয়েকজন ধমক ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলেও অভিযোগ করেন গ্রামীণ কল্যাণের ভারপ্রাপ্ত বিভাগ (হিসাব ও অর্থ) প্রধান মো. ইউসুফ রেজা খান। পরে সন্ধ্যায় এ বিষয়ে একটি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করতে গেলে স্থানীয় শাহ আলী থানা সেটি গ্রহণ করেনি বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। 

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন : আমাদের প্রতিষ্ঠান জবর দখল হয়েছে : ভয়ংকর পরিস্থিতিতে আছি

আপডেট সময় ০৫:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

অনলাইন ডেস্ক  : গ্রামীণ টেলিকমসহ নিজেদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জবর দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, গ্রামীণ ব্যাংক তাদের আটটি প্রতিষ্ঠান জবর দখল করে নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান তাদের মতো করে চালাচ্ছে। পুলিশের কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইলেও সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

রাজধানীর মিরপুরে গ্রামীণ টেলিকম ভবনে বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় অন্যদের মধ্যে গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল ইসলাম, গ্রামীণ কল্যাণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একে এম মঈনুদ্দিন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, ঢাকার মিরপুর ১ নম্বরে চিড়িয়াখানা সড়কে গ্রামীণ টেলিকম ভবন। এ ভবনে ড. ইউনূসের ১৬ টি কোম্পানি রয়েছে। যার প্রতিটির চেয়ারম্যান তিনি। গত ১২ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ ভবনে অবস্থিত আটটি অফিস দখল করে নেওয়া হয়েছে বলে আজকের সংবাদ সম্মেলনে জানান অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, ‘ওই দিন থেকে তারা ভবনে তালা মেরে রেখেছে। নিজের বাড়িতে অন্য কেউ যদি তালা মারে তখন কেমন লাগার কথা আপনারাই বলেন। তাহলে দেশে আইন আদালত আছে কিসের জন্য। তারা আদালতে যেতে চায় না। আমরা জীবনে বহু দুর্যোগ দেখেছি। এমন দুর্যোগ আর কখনো দেখিনি।’ ড. ইউনূস বলেন, এভাবে দেশ চলছে কীভাবে। আমাদের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল হচ্ছে। এ বিষয়ে আদালতে শরণাপন্ন  হবেন বলেও জানান তিনি। এর আগে সকালে ড. ইউনূসের সংবাদ সম্মেলনের কথা শুনে মিরপুরে ঝাড়ু মিছিল বের হয়। আইন মেনেই এসব প্রতিষ্ঠান করা হয়েছে জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ব্যবসার মুনাফার টাকায় এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। গ্রামীণ ব্যাংকের টাকায় হয়নি। যা হয়েছে আইন মেনে হয়েছে বলে জানান তিনি। 

‘ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে আছি’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এ ভবনটা আমরা করেছি, এটা আমাদের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। হঠাৎ চার দিন আগে বাইরের লোক এসে জবরদখল শুরু করে। আর আমরাই বাইরের লোক হয়ে গেলাম। আমাদের সব অফিসের প্রধান কার্যালয় এটি। দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য এখান থেকে কাজ করা হয়।’

গ্রামীণ কল্যাণের কর্মীরা জানান, আজ সকাল থেকে গ্রামীণ টেলিকম ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছে কিছু লোক, সঙ্গে ঝাড়ু নিয়ে কিছু নারীও উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত কাউকে এমনকি ভবন পরিদর্শনে আসা কাউকেও ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না। এর আগে গত কয়েক দিন, ২০ জনের একটি দল এই ভবন দখলের চেষ্টা চালিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এ দিকে বুধবার মোবাইল ফোনে কল করে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা পরিচয়ে বেশ কয়েকজন ধমক ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলেও অভিযোগ করেন গ্রামীণ কল্যাণের ভারপ্রাপ্ত বিভাগ (হিসাব ও অর্থ) প্রধান মো. ইউসুফ রেজা খান। পরে সন্ধ্যায় এ বিষয়ে একটি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করতে গেলে স্থানীয় শাহ আলী থানা সেটি গ্রহণ করেনি বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।