ঢাকা , সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কাল মেডিকেলে ভর্তির শেষ দিন : এখনো টাকা জোগাড় হয়নি উর্মির!

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৫:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • 216

অনলাইন ডেস্ক  : উরপীতা খাতুন উর্মি ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএসে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন; কিন্তু কৃষক বাবা তার ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তার ভর্তির শেষ দিন ২০ ফেব্রুয়ারি। ১৯ ফেব্রুয়ারি দুপুর পর্যন্ত কোনো টাকা সংগ্রহ করতে পারেননি। এ নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন। আদৌ তাকে মেডিকেলে ভর্তি করতে পারবেন কিনা। তিনি ৬৭.৭৫ নম্বর পেয়ে চাঁদপুর সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। উরপীতা রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের ধন্দহ গ্রামের আতাউর রহমানের মেয়ে।

জানা গেছে, উরপীতা খাতুন উর্মির বাবা যৌথ পরিবারের সদস্য হিসেবে মাত্র দেড় বিঘা জমিতে কৃষিকাজ করে কোনোমতে সংসার চালান। স্ত্রী হাফিজা বেগম গৃহিণী। উরপীতা খাতুন উর্মির দাদি রেহেনা বেগম উনদা বিক্রির টাকা ও চাচা মতিউর রহমানের কিছু সহযোগিতায় লেখাপড়া করেছেন।

উরপীতা খাতুন উর্মি ধন্দহ-অমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরে বোয়ালিয়াপাড়া এমএম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি ও এসএসসিতে জিপিএ-৫ পায়। এরপর নিজ গ্রাম থেকে চার কিলোমিটার দূরে দিঘা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করে। উরপীতা খাতুন উর্মির বাবার একটাই চিন্তা মেয়ের ভর্তি ও আগামী দিনের লেখাপড়ার খরচ কিভাবে চালাবেন।

এ বিষয়ে বাবা আতাউর রহমান বলেন, মেয়ের কোনো চাহিদা পূরণ করতে পারিনি। আধুনিক যুগে একটি মোবাইল ফোন কিনে দিতে পারিনি। এ কথা বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। মেয়ের মেডিকেলের খরচ চালানোর সঙ্গতি নেই। কী করব ভেবে পাচ্ছি না।

উরপীতা খাতুন উর্মির মা হাফিজা বেগম মেয়ের সাফল্যে আনন্দে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মেয়ের সাফল্যে খুব আনন্দ হচ্ছে। আল্লাহ আমাদের পুরস্কৃত করেছেন। মেয়ে যাতে ভালো ডাক্তার হয়ে গরিব ও অসহায় মানুষের সেবা করতে পারে, সেজন্য সবার দোয়া কামনা করছি। উরপীতার চাচা মতিউর রহমান বলেন, ছোটবেলা থেকে মেয়ে লেখাপড়ায় ছিল অদম্য মেধাবী। তার ও পরিবারের প্রচেষ্টা, শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় উর্মি মেডিকেলে চান্স পেয়েছে।

এ বিষয়ে দিঘা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ জহুরুল ইসলাম বলেন, উরপীতা খাতুন উর্মি খুব মেধাবী ছাত্রী। সে জেএসসি, এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার কৃতিত্বে আমরা গর্বিত। তবে কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি সহযোগিতায় এগিয়ে এলে সে লেখাপড়া করতে পারত। সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা, উরপীতা খাতুন উর্মি, জনতা ব্যাংক, অ্যাকাউন্ট নাম্বার-০১০০২৫৩৭৫১৭৪১। সালামপুর শাখা, লালপুর, নাটোর।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

কাল মেডিকেলে ভর্তির শেষ দিন : এখনো টাকা জোগাড় হয়নি উর্মির!

আপডেট সময় ০৫:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

অনলাইন ডেস্ক  : উরপীতা খাতুন উর্মি ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএসে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন; কিন্তু কৃষক বাবা তার ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তার ভর্তির শেষ দিন ২০ ফেব্রুয়ারি। ১৯ ফেব্রুয়ারি দুপুর পর্যন্ত কোনো টাকা সংগ্রহ করতে পারেননি। এ নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন। আদৌ তাকে মেডিকেলে ভর্তি করতে পারবেন কিনা। তিনি ৬৭.৭৫ নম্বর পেয়ে চাঁদপুর সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। উরপীতা রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের ধন্দহ গ্রামের আতাউর রহমানের মেয়ে।

জানা গেছে, উরপীতা খাতুন উর্মির বাবা যৌথ পরিবারের সদস্য হিসেবে মাত্র দেড় বিঘা জমিতে কৃষিকাজ করে কোনোমতে সংসার চালান। স্ত্রী হাফিজা বেগম গৃহিণী। উরপীতা খাতুন উর্মির দাদি রেহেনা বেগম উনদা বিক্রির টাকা ও চাচা মতিউর রহমানের কিছু সহযোগিতায় লেখাপড়া করেছেন।

উরপীতা খাতুন উর্মি ধন্দহ-অমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরে বোয়ালিয়াপাড়া এমএম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি ও এসএসসিতে জিপিএ-৫ পায়। এরপর নিজ গ্রাম থেকে চার কিলোমিটার দূরে দিঘা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করে। উরপীতা খাতুন উর্মির বাবার একটাই চিন্তা মেয়ের ভর্তি ও আগামী দিনের লেখাপড়ার খরচ কিভাবে চালাবেন।

এ বিষয়ে বাবা আতাউর রহমান বলেন, মেয়ের কোনো চাহিদা পূরণ করতে পারিনি। আধুনিক যুগে একটি মোবাইল ফোন কিনে দিতে পারিনি। এ কথা বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। মেয়ের মেডিকেলের খরচ চালানোর সঙ্গতি নেই। কী করব ভেবে পাচ্ছি না।

উরপীতা খাতুন উর্মির মা হাফিজা বেগম মেয়ের সাফল্যে আনন্দে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মেয়ের সাফল্যে খুব আনন্দ হচ্ছে। আল্লাহ আমাদের পুরস্কৃত করেছেন। মেয়ে যাতে ভালো ডাক্তার হয়ে গরিব ও অসহায় মানুষের সেবা করতে পারে, সেজন্য সবার দোয়া কামনা করছি। উরপীতার চাচা মতিউর রহমান বলেন, ছোটবেলা থেকে মেয়ে লেখাপড়ায় ছিল অদম্য মেধাবী। তার ও পরিবারের প্রচেষ্টা, শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় উর্মি মেডিকেলে চান্স পেয়েছে।

এ বিষয়ে দিঘা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ জহুরুল ইসলাম বলেন, উরপীতা খাতুন উর্মি খুব মেধাবী ছাত্রী। সে জেএসসি, এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার কৃতিত্বে আমরা গর্বিত। তবে কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি সহযোগিতায় এগিয়ে এলে সে লেখাপড়া করতে পারত। সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা, উরপীতা খাতুন উর্মি, জনতা ব্যাংক, অ্যাকাউন্ট নাম্বার-০১০০২৫৩৭৫১৭৪১। সালামপুর শাখা, লালপুর, নাটোর।