ঢাকা , শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাজধানীর বেইলি রোডে বহুতল ভবনে লাগা আগুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৫:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মার্চ ২০২৪
  • 50
অনলাইন ডেস্ক :  রাজধানীর বেইলি রোডে বহুতল ভবনে লাগা আগুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ৪০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে ৩৫ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার (১ মার্চ) বেলা ১১টা পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে এসব মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। ঢাকা জেলা প্রশাসকের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম হেদায়েতুল ইসলাম এ তথ্য জানান।  এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টার পর থেকে মরদেহ হস্তান্তরের জন্য নিহতদের স্বজনদের তথ্য চায় ঢাকা জেলা প্রশাসন। তথ্য সংগ্রহ সাপেক্ষে মরদেহ শনাক্তের পর মরদেহ হস্তান্তর শুরু হয়।
মরদেহ হস্তান্তর করাদের মধ্যে যাদের পরিচয় মিলেছে। তালিকা : ১। ঢাকার যাত্রাবাড়ীর শিপন পোদ্দারের মেয়ে সম্পূর্ণা পোদ্দার (১২) (২) ঢাকার বংশালের মো. মোসলেমের ছেলে মো. নুরুল ইসলাম (৩২) ৩। ঢাকার প্রাণ নাথ রায়ের মেয়ে পপি রায় (৩৩) ৪। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৃত মো. জহিরুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৫) ৫। কুমিল্লার এম এ এইচ গোলাম মহিউদ্দিনের মেয়ে জান্নাতিন তাজরিন ৬। ঢাকার পুরানা পল্টনের মো. আলীর মেয়ে নাজিয়া আক্তার (৩১) ৭। ঢাকার পুরানা পল্টনের সায়েক আহমেদের ছেলে আরহান মোস্তাক আহমেদ (৪৬) ৮। ঢাকার মতিঝিলের কবির খানের ছোট মেয়ে মাইশা কবির মাহি (২১) ৯। কবির খানের বড় মেয়ে মেহেরা কবির দোলা (২৯) ১০। ঢাকার মতিঝিলের জয়ন্ত কুমার পোদ্দারের স্ত্রী পম্পা সাহা (৪৭) ১১। মাদারীপুরের জাকির শিকদারের ছেলে মো. জিহাদ হোসেন (২২) ১২। মৌলভীবাজারের ফজলুর রহমানে ছেলে সাংবাদিক আতাউর রহমান শামীম (৬৩) ১৩। যশোরের মো. কবির হোসেনের ছেলে মো. কামরুল হাবিব রকি (২০)
১৪। টাঙ্গাইলের মোয়াজ্জেম মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান (২৭) ১৫। কুমিল্লার লালমাইয়ের কোরবান আলীর মেয়ে ফৌজিয়া আফরিন রিয়া (২২) ১৬। কুমিল্লা সদরের আব্দুল কুদ্দুসের মেয়ে নুসরাত জাহান মিশু (১৯) ১৭। ঢাকার হাতিরঝিলের সৈয়দ মোবারকের মেয়ে ফাতিমাতুজ জোহরা (১৬) ১৮। মোবারক হোসেনের ছেলের সৈয়দ আব্দুল্লাহ (৮) ১৯। একই পরিবারের মুন্সি বাহারউদ্দিনের মেয়ে স্বপ্না আক্তার ২০। মুন্সিগঞ্জের মো আওলাদ হোসেনের মেয়ে জারিম তাসনিম প্রিয়তি (২০) ২১। নারায়ণগঞ্জর মো. আমজাদ হোসেনের ছেলে শান্ত হোসেন (২৩) ২২। ভোলার মইনুল হকের ছেলে দিদারুল হক (২৩)
২৩। ঢাকা হাতিরঝিলের সৈয়দ আবুল কাশেমের ছেলে সৈয়দ মোবারক (৪৮) ২৪। হবিগঞ্জর উত্তর কুমার রায়ের স্ত্রী রুবি রায় (৪৮) ২৫। একই পরিবারের প্রিয়াংকা রায় (১৮) ২৬। ঝালকাঠির দিপেশের পুতে তুষার হাওয়ালদার (২৬) ২৭। ঢাকা শান্তিনগরের ইসমাইল গাজীর ছেলে জুয়েল গাজী (৩০)। এদিকে শুক্রবার (১ মার্চ) শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক বিফ্রিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. সামন্ত লাল সেন জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, এ ঘটনায় দ্বগ্ধ চিকিৎসাধীন ব্যক্তিরাও শঙ্কামুক্ত নন।
বেইলি রোডের যে ভবনে আগুন লেগেছে, সেটি সাত তলা। ভবনের দ্বিতীয় তলায় ‘কাচ্চি ভাই’ নামের খাবারের দোকান রয়েছে। তৃতীয় তলায় একটি পোশাকের দোকান ছাড়া ওপরের তলাগুলোতেও রয়েছে খাবারের দোকান। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে খাবারের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় হয়। অনেকেই পরিবার নিয়ে সেখানে খেতে যান। তিন তলায় ছিল কাপড়ের দোকান। বাকি সব ছিল রেস্টুরেন্ট। রেস্টুরেন্টগুলোতে ছিল গ্যাস সিলিন্ডার। যে কারণে আগুনের তীব্রতা ছড়িয়েছে ভয়াবহভাবে।
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

লোকসভা নির্বাচন-২০২৪ : ভোটের আগে বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন কর্ণাটকের সাবেক মন্ত্রী

রাজধানীর বেইলি রোডে বহুতল ভবনে লাগা আগুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে

আপডেট সময় ০৫:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মার্চ ২০২৪
অনলাইন ডেস্ক :  রাজধানীর বেইলি রোডে বহুতল ভবনে লাগা আগুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ৪০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে ৩৫ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার (১ মার্চ) বেলা ১১টা পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে এসব মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। ঢাকা জেলা প্রশাসকের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম হেদায়েতুল ইসলাম এ তথ্য জানান।  এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টার পর থেকে মরদেহ হস্তান্তরের জন্য নিহতদের স্বজনদের তথ্য চায় ঢাকা জেলা প্রশাসন। তথ্য সংগ্রহ সাপেক্ষে মরদেহ শনাক্তের পর মরদেহ হস্তান্তর শুরু হয়।
মরদেহ হস্তান্তর করাদের মধ্যে যাদের পরিচয় মিলেছে। তালিকা : ১। ঢাকার যাত্রাবাড়ীর শিপন পোদ্দারের মেয়ে সম্পূর্ণা পোদ্দার (১২) (২) ঢাকার বংশালের মো. মোসলেমের ছেলে মো. নুরুল ইসলাম (৩২) ৩। ঢাকার প্রাণ নাথ রায়ের মেয়ে পপি রায় (৩৩) ৪। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৃত মো. জহিরুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৫) ৫। কুমিল্লার এম এ এইচ গোলাম মহিউদ্দিনের মেয়ে জান্নাতিন তাজরিন ৬। ঢাকার পুরানা পল্টনের মো. আলীর মেয়ে নাজিয়া আক্তার (৩১) ৭। ঢাকার পুরানা পল্টনের সায়েক আহমেদের ছেলে আরহান মোস্তাক আহমেদ (৪৬) ৮। ঢাকার মতিঝিলের কবির খানের ছোট মেয়ে মাইশা কবির মাহি (২১) ৯। কবির খানের বড় মেয়ে মেহেরা কবির দোলা (২৯) ১০। ঢাকার মতিঝিলের জয়ন্ত কুমার পোদ্দারের স্ত্রী পম্পা সাহা (৪৭) ১১। মাদারীপুরের জাকির শিকদারের ছেলে মো. জিহাদ হোসেন (২২) ১২। মৌলভীবাজারের ফজলুর রহমানে ছেলে সাংবাদিক আতাউর রহমান শামীম (৬৩) ১৩। যশোরের মো. কবির হোসেনের ছেলে মো. কামরুল হাবিব রকি (২০)
১৪। টাঙ্গাইলের মোয়াজ্জেম মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান (২৭) ১৫। কুমিল্লার লালমাইয়ের কোরবান আলীর মেয়ে ফৌজিয়া আফরিন রিয়া (২২) ১৬। কুমিল্লা সদরের আব্দুল কুদ্দুসের মেয়ে নুসরাত জাহান মিশু (১৯) ১৭। ঢাকার হাতিরঝিলের সৈয়দ মোবারকের মেয়ে ফাতিমাতুজ জোহরা (১৬) ১৮। মোবারক হোসেনের ছেলের সৈয়দ আব্দুল্লাহ (৮) ১৯। একই পরিবারের মুন্সি বাহারউদ্দিনের মেয়ে স্বপ্না আক্তার ২০। মুন্সিগঞ্জের মো আওলাদ হোসেনের মেয়ে জারিম তাসনিম প্রিয়তি (২০) ২১। নারায়ণগঞ্জর মো. আমজাদ হোসেনের ছেলে শান্ত হোসেন (২৩) ২২। ভোলার মইনুল হকের ছেলে দিদারুল হক (২৩)
২৩। ঢাকা হাতিরঝিলের সৈয়দ আবুল কাশেমের ছেলে সৈয়দ মোবারক (৪৮) ২৪। হবিগঞ্জর উত্তর কুমার রায়ের স্ত্রী রুবি রায় (৪৮) ২৫। একই পরিবারের প্রিয়াংকা রায় (১৮) ২৬। ঝালকাঠির দিপেশের পুতে তুষার হাওয়ালদার (২৬) ২৭। ঢাকা শান্তিনগরের ইসমাইল গাজীর ছেলে জুয়েল গাজী (৩০)। এদিকে শুক্রবার (১ মার্চ) শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক বিফ্রিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. সামন্ত লাল সেন জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, এ ঘটনায় দ্বগ্ধ চিকিৎসাধীন ব্যক্তিরাও শঙ্কামুক্ত নন।
বেইলি রোডের যে ভবনে আগুন লেগেছে, সেটি সাত তলা। ভবনের দ্বিতীয় তলায় ‘কাচ্চি ভাই’ নামের খাবারের দোকান রয়েছে। তৃতীয় তলায় একটি পোশাকের দোকান ছাড়া ওপরের তলাগুলোতেও রয়েছে খাবারের দোকান। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে খাবারের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় হয়। অনেকেই পরিবার নিয়ে সেখানে খেতে যান। তিন তলায় ছিল কাপড়ের দোকান। বাকি সব ছিল রেস্টুরেন্ট। রেস্টুরেন্টগুলোতে ছিল গ্যাস সিলিন্ডার। যে কারণে আগুনের তীব্রতা ছড়িয়েছে ভয়াবহভাবে।