ঢাকা , শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জলদস্যুদের কবলে বাংলাদেশি জাহাজ : খুলনা মহানগরীর বয়রা এলাকার ইঞ্জিনিয়ার তৌফিকুল মায়ের সঙ্গে কথা বলার সময় ফোন কেড়ে নেয় জিম্মিকারীরা

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মার্চ ২০২৪
  • 80
অনলাইন ডেস্ক :  ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি আবদুল্লাহ’। জিম্মি জাহাজে থাকা ২৩ জনই বাংলাদেশি। তাদের একজন প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলাম। তিনি খুলনা মহানগরীর বয়রার বাসিন্দা। জিম্মি হওয়ার পর দুবার স্ত্রী ও মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন তৌফিকুল। তিনি জিম্মি জাহাজটির সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার।  অডিও বার্তায় বলতে শুনা যায়, আমাদের কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে নিচ্ছে। ফাইনাল কথা হচ্ছে, এখানে যদি টাকা না দেয়, আমাদের একজন একজন করে মেরে ফেলবে বলেছে। তাদের যত তাড়াতাড়ি টাকা দেবে, তত তাড়াতাড়ি ছাড়বে বলেছে। এই বার্তাটা সবদিকে পৌঁছে দিও। এর আগে ৩ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের আরেক অডিও বার্তায় জিম্মিদশার পুরো ঘটনা বর্ণনা করেছেন জাহাজের চিফ অফিসার মো. আবদুল্লাহ। দেশে পরিবারকে দেখেশুনে রাখার আকুতি জানিয়েছেন। অডিও বার্তায় জানানো হয়, এখন পর্যন্ত আল্লাহর রহমতে কার কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। জাহাজেরও কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে সবাই ভয়ে আছে। জাহাজে থাকা সবার জন্য দোয়া চেয়েছেন। একই সঙ্গে দেশে পরিবারকে দেখে রাখার আকুতি জানান ওই কর্মকর্তা। তাদের সান্ত্বনা জানানোর কথাও বলেন। তবে শোনা যাচ্ছে, জিম্মি দশায় থাকা নাবিকদের কাছে বিপুল অর্থ দাবি করা হচ্ছে। দ্রুত টাকা না দিলে মেরে ফেলার কথাও বলছে তারা।
সোমালিয়ান জলদস্যুরা জাহাজে ওঠার পর কার সঙ্গে কী আচরণ করেছে সেই বর্ণনাও দিয়েছেন তিনি। অডিও বার্তার শুরুতেই সালাম দিয়ে তার নাম বলেন। জানান, সাড়ে ১০টার সময় একটা হাইস্পিড বোট জাহাজের দিকে আসতে দেখে এলার্ম বাজানো হয়। সহায়তার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ফোন দিলেও তারা রিসিভ করেনি। এর মধ্যে জলদস্যু চলে আসে। জাহাজে উঠেই দস্যুরা ক্যাপ্টেন ও সেকেন্ড অফিসারকে জিম্মি করে। এরপর সবাইকে একসঙ্গে করে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। সেকেন্ড অফিসারকে হালকা মারধর করেছে তবে আর কারও গায়ে হাত তোলেনি তারা। এর কয়েক মিনিটের মধ্যে ফিশিং বোট নিয়ে আরও জলদস্যু আসতে থাকে। সবার হাতেই প্রায় অস্ত্র ছিল। নানা ভয়ভীতি দেখাচ্ছিল। এ সময় তাদের বোটের তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশি জাহাজের পাম্প দিয়ে তেল নিয়ে নেয়। এরপর জাহাজের ইঞ্জিনও বন্ধ করে দেয় তারা।
বুধবার দুপুরে তৌফিকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার বাবা মো. ইকবাল বাড়িতে নেই। বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই কানে আসে কান্নার আওয়াজ। দুই সন্তানকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলেন তৌফিকুলের স্ত্রী জোবাইদা নোমান। পাশে বসে শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ মুছছেন ৭২ বছরের বৃদ্ধা শাশুড়ি দিল আফরোজা। মঙ্গলবার (১২ মার্চ) বিকাল ৫টার দিকে মায়ের কাছে দোয়া ও ক্ষমা চান তিনি। এ সময় তার মোবাইল ফোন নিয়ে যায় জিম্মিকারীরা। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি পরিবারের। বর্তমানে তার পরিবারে শোকাবহ অবস্থা। ইঞ্জিনিয়ার তৌফিকুল ইসলামের মা দিল আফরোজ জানান, জাহাজ থেকে গোপনে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে দোয়া চেয়েছেন তৌফিক। মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে তার সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়। এ সময় জলদস্যুরা তার ফোনটি কেড়ে নেয়। খুলনা মহানগরীর বয়রার করিমনগর এলাকার ২০/১ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা মো. ইকবালের তৃতীয় সন্তান তৌফিকুল ইসলাম। এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা তিনি।তৌফিকের স্ত্রী জুবায়দা নোমান জানান, মঙ্গলবার বিকালে শাশুড়ি মায়ের সঙ্গে কথা বলে তৌফিকুল। ওইদিন বেলা ২টার দিকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ হয় তার। এ সময় তৌফিক জলদস্যুদের কবলে পড়ার বিষয়টি মা-বাবাকে জানাতে নিষেধ করেন। একই সঙ্গে তার জন্য দোয়া করতে বলেন।
তিনি আরও জানান, আমাদের দাবি দ্রুত যেন আমার স্বামীসহ সকলকে উদ্ধারে সরকার পদক্ষেপ নেয়। আমি আমার স্বামীকে দ্রুত ফিরে পেতে চাই। আমার স্বামী কী অবস্থায় আছে তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছি। ২০০৮ সাল থেকে আমার স্বামী জাহাজে চাকরি করলেও এ ধরনের বিপদে এই প্রথমবার পড়েছে। ২০০৮ সাল থেকে বিভিন্ন জাহাজে চাকরি করছেন তৌফিক। তার বড় দুই ভাই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তৌফিক লেখাপড়া শিখে সাগরে ঘুরে বেড়ানোর চাকরি নেন। ‘এমভি আবদুল্লাহ’য় যোগদান করেন ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে। 
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

লোকসভা নির্বাচন-২০২৪ : ভোটের আগে বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন কর্ণাটকের সাবেক মন্ত্রী

জলদস্যুদের কবলে বাংলাদেশি জাহাজ : খুলনা মহানগরীর বয়রা এলাকার ইঞ্জিনিয়ার তৌফিকুল মায়ের সঙ্গে কথা বলার সময় ফোন কেড়ে নেয় জিম্মিকারীরা

আপডেট সময় ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মার্চ ২০২৪
অনলাইন ডেস্ক :  ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি আবদুল্লাহ’। জিম্মি জাহাজে থাকা ২৩ জনই বাংলাদেশি। তাদের একজন প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলাম। তিনি খুলনা মহানগরীর বয়রার বাসিন্দা। জিম্মি হওয়ার পর দুবার স্ত্রী ও মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন তৌফিকুল। তিনি জিম্মি জাহাজটির সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার।  অডিও বার্তায় বলতে শুনা যায়, আমাদের কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে নিচ্ছে। ফাইনাল কথা হচ্ছে, এখানে যদি টাকা না দেয়, আমাদের একজন একজন করে মেরে ফেলবে বলেছে। তাদের যত তাড়াতাড়ি টাকা দেবে, তত তাড়াতাড়ি ছাড়বে বলেছে। এই বার্তাটা সবদিকে পৌঁছে দিও। এর আগে ৩ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের আরেক অডিও বার্তায় জিম্মিদশার পুরো ঘটনা বর্ণনা করেছেন জাহাজের চিফ অফিসার মো. আবদুল্লাহ। দেশে পরিবারকে দেখেশুনে রাখার আকুতি জানিয়েছেন। অডিও বার্তায় জানানো হয়, এখন পর্যন্ত আল্লাহর রহমতে কার কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। জাহাজেরও কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে সবাই ভয়ে আছে। জাহাজে থাকা সবার জন্য দোয়া চেয়েছেন। একই সঙ্গে দেশে পরিবারকে দেখে রাখার আকুতি জানান ওই কর্মকর্তা। তাদের সান্ত্বনা জানানোর কথাও বলেন। তবে শোনা যাচ্ছে, জিম্মি দশায় থাকা নাবিকদের কাছে বিপুল অর্থ দাবি করা হচ্ছে। দ্রুত টাকা না দিলে মেরে ফেলার কথাও বলছে তারা।
সোমালিয়ান জলদস্যুরা জাহাজে ওঠার পর কার সঙ্গে কী আচরণ করেছে সেই বর্ণনাও দিয়েছেন তিনি। অডিও বার্তার শুরুতেই সালাম দিয়ে তার নাম বলেন। জানান, সাড়ে ১০টার সময় একটা হাইস্পিড বোট জাহাজের দিকে আসতে দেখে এলার্ম বাজানো হয়। সহায়তার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ফোন দিলেও তারা রিসিভ করেনি। এর মধ্যে জলদস্যু চলে আসে। জাহাজে উঠেই দস্যুরা ক্যাপ্টেন ও সেকেন্ড অফিসারকে জিম্মি করে। এরপর সবাইকে একসঙ্গে করে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। সেকেন্ড অফিসারকে হালকা মারধর করেছে তবে আর কারও গায়ে হাত তোলেনি তারা। এর কয়েক মিনিটের মধ্যে ফিশিং বোট নিয়ে আরও জলদস্যু আসতে থাকে। সবার হাতেই প্রায় অস্ত্র ছিল। নানা ভয়ভীতি দেখাচ্ছিল। এ সময় তাদের বোটের তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশি জাহাজের পাম্প দিয়ে তেল নিয়ে নেয়। এরপর জাহাজের ইঞ্জিনও বন্ধ করে দেয় তারা।
বুধবার দুপুরে তৌফিকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার বাবা মো. ইকবাল বাড়িতে নেই। বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই কানে আসে কান্নার আওয়াজ। দুই সন্তানকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলেন তৌফিকুলের স্ত্রী জোবাইদা নোমান। পাশে বসে শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ মুছছেন ৭২ বছরের বৃদ্ধা শাশুড়ি দিল আফরোজা। মঙ্গলবার (১২ মার্চ) বিকাল ৫টার দিকে মায়ের কাছে দোয়া ও ক্ষমা চান তিনি। এ সময় তার মোবাইল ফোন নিয়ে যায় জিম্মিকারীরা। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি পরিবারের। বর্তমানে তার পরিবারে শোকাবহ অবস্থা। ইঞ্জিনিয়ার তৌফিকুল ইসলামের মা দিল আফরোজ জানান, জাহাজ থেকে গোপনে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে দোয়া চেয়েছেন তৌফিক। মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে তার সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়। এ সময় জলদস্যুরা তার ফোনটি কেড়ে নেয়। খুলনা মহানগরীর বয়রার করিমনগর এলাকার ২০/১ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা মো. ইকবালের তৃতীয় সন্তান তৌফিকুল ইসলাম। এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা তিনি।তৌফিকের স্ত্রী জুবায়দা নোমান জানান, মঙ্গলবার বিকালে শাশুড়ি মায়ের সঙ্গে কথা বলে তৌফিকুল। ওইদিন বেলা ২টার দিকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ হয় তার। এ সময় তৌফিক জলদস্যুদের কবলে পড়ার বিষয়টি মা-বাবাকে জানাতে নিষেধ করেন। একই সঙ্গে তার জন্য দোয়া করতে বলেন।
তিনি আরও জানান, আমাদের দাবি দ্রুত যেন আমার স্বামীসহ সকলকে উদ্ধারে সরকার পদক্ষেপ নেয়। আমি আমার স্বামীকে দ্রুত ফিরে পেতে চাই। আমার স্বামী কী অবস্থায় আছে তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছি। ২০০৮ সাল থেকে আমার স্বামী জাহাজে চাকরি করলেও এ ধরনের বিপদে এই প্রথমবার পড়েছে। ২০০৮ সাল থেকে বিভিন্ন জাহাজে চাকরি করছেন তৌফিক। তার বড় দুই ভাই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তৌফিক লেখাপড়া শিখে সাগরে ঘুরে বেড়ানোর চাকরি নেন। ‘এমভি আবদুল্লাহ’য় যোগদান করেন ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে।