ঢাকা , সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রাণিসম্পদের দুর্নীতিবাজ কে এই ডাঃ আজিজ ?

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ এপ্রিল ২০২৪
  • 88
অনলাইন ডেক্স :   প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোঃ আব্দুুর রহমানের বাসার ড্রইং রুমের ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পোষ্ট করে মন্ত্রীর মাই ম্যান প্রমাণ করার জন্য মরিয়া নানান অপকর্মে চাকুরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আজিজুল ইসলাম। মন্ত্রীর সরলতার সুযোগ নিয়ে ডাঃ আজিজুল মন্ত্রীর বাসায় মন্ত্রীর লুঙ্গি পরিহিত ছবি তুলে নিজ ফেইসবুকে পোষ্ট করে। এছাড়াও  স্বঘোষিত নামসর্বস্ব বঙ্গবন্ধু ভেটেরিনারি পরিষদ এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও ফুল দিয়ে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোঃ আব্দুুর রহমানকে কনভেন্স করে নিজের অপকর্ম থেকে মুক্তি পেতে ব্যাস্ত আজিজুল। নিজ  অপকর্মের দায় থেকে মুক্তি পেতে লবিষ্ট নিয়োগে মোটা অংকের  টাকার বিনিময়ে তিনি মন্ত্রীর নিকটলোক দের কাছেও কম ধরনা দিচ্ছেন না বলে একটি সূত্র জানায়। তবে এত কিছু করেও তার শেষ রক্ষা হবে কিনা জানেন না ডাঃ আজিজ। কারন তিনি এখন ফৌজদারী মামলার আসামি। তেঁজগা থানা পুলিশ তার বিরুদ্ধে মামলা তদন্তে ব্যাস্ত। আর মামলার বাদী প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সদ্য সাবেক ডিজি ইমদাদুল হক।
অপর একটি সূত্র জানায়, অত্যন্ত ধূর্ত ও সুযোগ সন্ধানী এই আজিজ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা থেকে শুরু করে অদ্যবধি রুপ পাল্টিয়ে কখনও বিএনপি, কখনও শিবির কিংবা কখনও আওয়ামী লীগের লেবাস ধারণ করে আসছে। প্রকৃতপক্ষে এই ডাঃ আজিজ পারিবারিকভাবে স্বাধীনতা বিরোধী পরিবারের জন্মগ্রহণ করে। যার কারনে মনে প্রাণে জামায়াতে ইসলাম বাংলাদেশের রাজনীতির সাথে যুক্ত। যশোর জেলার কোতোয়ালী থানার তীরের হাট গ্রামের একজন কুখ্যাত রাজাকার মেহের আলী ডাঃ  মোঃ আজিজুল ইসলাম এর পিতা। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন অত্র এলাকার শান্তি বাহিনীর প্রধান ছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমান রয়েছে। 
নিজে বিরাট আওয়ামী লীগের আদর্শিক সেজে কৌশলে সদ্য সাবেক একজন মন্ত্রীর ঘনিষ্টতা অর্জন করেন আজিজ। এর পর থেকে তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক অপকর্ম করে সাবেক মন্ত্রীর তদবিরে পার পেয়ে যাচ্ছে একের পর এক অপকর্ম থেকে। যে কারনে নাম ভাঙ্গিয়ে চলা ডাঃ আজিজ নিজেকে অসীম ক্ষমতাবান মনে করেন। যার কারনে  তিনি চাকুরীতে কোন শৃংঙ্খলতা মেনে চলেন না বলে একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ।
সূত্র জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ‘প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ উদযাপনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অফিসিয়াল হোয়াটস এ্যাপ গ্রুপে বিসিএস (লাইভষ্টক) ক্যাডার কর্মকর্তার অশোভন, অসৌজন্যমূলক ও ব্যক্তিগত বিদ্বেষ প্রসূত বার্তার আদান-প্রদান’ সংক্রান্ত  বিষয় নিয়ের তদন্ত নিয়ে তুলকালাম ঘটনা ঘটান এই আজিজ। তিনি ঐ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অধিদপ্তরের সিনিয়র কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চড়াও হন।
গত ১ অক্টোবর তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানের বিষয় পরিবর্তনের জন্য ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম অযাচিত চাপ প্রয়োগ করেন। এ প্রেক্ষিতে ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম তদন্ত কমিটির সামনে টেবিল চাপড়ে অশোভন আচরণ করেন ও তদন্ত কাজে বাধাপ্রদানসহ হুমকি প্রদান করেন। একইসাথে তদন্ত কাজে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় হতে সরবরাহকৃত প্রমাণক সমূহ কমিটির সম্মুখে ছিঁড়ে ফেলেন ও তদন্তের ডকেট, সদস্য সচিবের কাছ থেকে কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। এসময় তিনি উত্তেজিত হয়ে বলতে থাকেন ‘দেশে আর্মি বেকড গভর্ণমেন্ট আসছে, তখন আমি দেখে নেব’।
তদন্ত কার্যক্রমে অসহযোগিতা ও বাধা প্রদানের জন্য তদন্ত কমিটি গত ২ অক্টোবর বিষয়টি প্রাণিসম্পদ অধিদরের সাবেক মহাপরিচাককে অফিসিয়ালী জানান এবং মহাপরিচালক বিষয়টি  প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেন।
সূত্র জানায়, তদন্ত কমিটি’র সভাপতি গত ৩ অক্টোবর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ‘অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের মাসিক অগ্রগতি পর্লোচনা সভায়’ প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে উপস্থিত হওয়ার পরপরই ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম বিনা প্ররোচনায় ও আকস্মিকভাবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউচের প্রায় ১৫ জন প্রকল্প পরিচালকসহ অন্যান্য সংস্থার কর্মকর্তাদের সামনে তদন্ত কমিটি’র সভাপতি ডাঃ মলয় কুমার শূরকে অশালীন ভাষায় ব্যক্তিগত আক্রমণসহ লাঞ্ছিত করেন। উক্ত ঘটনাকালে তিনি তদন্ত কমিটি’র সভাপতি ডাঃ মলয় কুমার শূরকে সাম্প্রদায়িক আক্রমনণসহ জীবননাশের হুমকি প্রদান করেন। বিষয়টি তদন্ত কমিটি’র সভাপতি মহাপরিচালকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়কে জানান।
পরে একই দিনে সভাশেষেই তদন্ত কমিটির সভাপতির সাথে মহাপরিচালকের কথ চলাকালীন সময় ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম অতর্কিতে মারমুখী হয়ে সাবেক মহাপরিচালক ডাঃ মোঃ এমদাদুল হক তালুকদার-এর দিকে তেড়ে আসেন এবং উচ্চ স্বরে হুমকি-ধামকি প্রদান করেন। এ সময়ে তিনি সাবেক কৃষিমন্ত্রী কে দিয়ে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। এময় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ.টি.এম  মোস্তফা কামালসহ উপস্থিত কর্মকর্তারা তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। মহাপরিচালক, বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত ও ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন।
সূত্র আরো জানায়, তদন্ত কার্যক্রমে বাধা প্রদানের জন্য ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম কে গত ৫ অক্টোবর থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে  প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এ ঘটনায় ডাঃ মলয় কুমার শূর, সরকারি কাজে বাধা, অফিস চলাকালীন সময়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি ও জীবননাশের হুমকির বিষয়গুলো দাপ্তরিকভাবে সাধারণ ডায়েরি করেন। (তেজগাঁও থানার সাধারণ ডায়েরি নং-৫৮২; তারিখ: ১০/১০/২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ) ।
আদালত সূত্রে জানাযায়, ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলামকে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় কর্তৃক সাময়িক বরখাস্থের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং ১২৯৬৮/২০২৩ দায়ের করে। আদালতকে পূর্ণাঙ্গ ঘটনাবলী গোপন করে ছয় (৬) মাসের স্থিতাবস্থা জারি করায়। সরকার পক্ষ উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে সিভিল পিটিশন নং ৩২২৭/২০২৩ দায়ের করে। সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ শুনানিতে হাই কোর্টের স্থিতিবস্থা বাতিলসহ উক্ত রিট মামলাটি  অবৈধ ঘোষণা করে।
সূত্র আরো জানায়, গত ১২ অক্টোবর ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম বহিরাগতদের নিয়ে মহাপরিচালকের রুমে গিয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে লাঞ্চিত করে এবং হত্যার হুমকি দেন। ডিজি বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন। এ ঘটনায় গত ১৮ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয় ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার নির্দেশ দেয়। পরে ডিজি গত ২১ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার এজাহার দেন এবং ২২ ডিসেম্বর ফৌজদারি বিধানে মামলা রেকর্ড হয়।
উল্ল্যেখ্য যে, ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে আগেও সিরাজগঞ্জ ভেটেরিনারি কলেজ স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দুর্নীতি ও অসদাচারণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় গত ২৩ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় তাঁকে তিরস্কারসূচক বিভাগীয় দন্ড প্রদান করে। এছাড়াও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের গত ৫ মে মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম-সচিবকে সভাপতি করে ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেটেরিনারি সার্ভিস জোরদারকরণ (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের অনিয়ম/দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি গঠন করে; তদন্ত শেষে আজিজুল ইসলামের ব্যপক দুর্নীতি ও অনিয়মের সুস্পষ্ট প্রমাণসহ তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা হয়েছে।
এছাড়াও  দুর্নীতি দমন কমিশন গত ১১জুন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেটেরিনারি সার্ভিস জোরদারকরণ প্রকল্প পরিচালক ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলামকে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান চলছে। উল্লেখ্য ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম ১২ অক্টোবর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক-কে অধিদপ্তরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান, অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাগণকে ধর্মীয় অনুভূতির ইস্যু তুলে গালিগালাজ ও ক্রমাগত হয়রানি এবং সরকার বিরোধী স্যাবোটাজসহ নানান ধরণের অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছেন মর্মে বিসিএস লাইভস্টক এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ভেটেরিনারি এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ এনিমেল হাজবেন্ড্রি এসোসিয়েশন, বঙ্গবন্ধু ভেটেরিনারি পরিষদ, দ্যা ভেট এক্সিকিউটিভ, বাংলাদেশ এনিমেল হাজবেন্ড্রি সোসাইটি, রিটায়ার্ড লাইভস্টক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন এর যৌথ প্রতিবাদ লিপি প্রদান করে ।
এর আগেও ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম সম্পর্কিত অভিযোগ তদন্তে প্রভাব খাটানোর অপচেষ্টার ফলে তদন্ত কমিটির প্রধান ড. অমলেন্দু ঘোষ গত ৭ নভেম্বর ২০২২ পত্রে তদন্ত পরিচালনায় বিব্রত বোধ করেন মর্মে উল্ল্যেখ করেন। উল্লেখিত ঘটনার প্রেক্ষিতে, ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত কার্যক্রম প্রক্রিয়া শুরু করে, তখন অত্যন্ত ধূর্ত ও দুষ্ট প্রকৃতির এই ব্যক্তি তৎকালীন কৃষি মন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাককে ভুল বুঝিয়ে ও প্রভাবিত করে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও তদন্তসমূহ ধামাচাপা দেওয়ার জোর তৎপরতা চালায়।
জানা যায়, গত ২০১৮ সালে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দায়েরকৃত মামলায় কৃষি মন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক এর পক্ষে বাদী হয় ধুরন্দর এই ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম। সুযোগ সন্ধানী এই ডাঃ আজিজ জানতো ঘটনার সময়কার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রায় একই সময়ে পরিবর্তন হবে এবং নতুন মন্ত্রী-সচিব ও মহাপরিচালককে আয়ত্তে এনে তার অপকর্ম ও মহা দুর্নীতির হাত থেকে বাঁচা সহজ হবে।
উল্লেখ্য যে, অজ্ঞাত শক্তির ঈশারার প্রেক্ষিতে ডাঃ আজিজের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি মামলা দ্রুততার সাথে শেষ করা ও মামলা থেকে অব্যাহতি প্রাপ্তির জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরসমূহের জোর তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডাঃ আজিজ মামলার আলামত নষ্ট করাসহ সাক্ষীদের প্রতিনিয়ত হুমকি-ধামকি দিয়ে যাচ্ছে এবং সন্ত্রাসী প্রকৃতির বহিরাগত লোকজন নিয়ে অধিদপ্তরে কালো শক্তি প্রদর্শন করছে।
ডাঃ আজিজ বর্তমান মহাপরিচালক প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ডাঃ মোহাম্মদ রেয়াজুল হক এর সাথে সাবেক মহাপরিচালক ডাঃ মোঃ এমদাদুল হক তালুকদারের সাথে তিক্ত সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ফায়দা লুটার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে। এ বিষয়ে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিরা শংকিত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
উল্লেখ্য এই ডাঃ আজিজ অতীতেও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক ও বাংলাদেশ ভেটেরিনারি এসোসিয়েশনের বর্তমান সভাপতি ডাঃ মোঃ নজরুল ইসলাম, সাবেক পরিচালক ডাঃ মোঃ সাব্বির হোসেন ও প্রাক্তন প্রকল্প পরিচালক মরহুম ডাঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম কে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেন বলেও অভিযোগ আছে।
ডাঃ আজিজ বহুদিন যাবৎ সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও অবৈধ উপায়ে বিভিন্ন সাংবাদিকদের প্রভাবিত করে অসত্য ও হয়রানিমূলক সংবাদ প্রচার করে আসছেন। এমনকি ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখেও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসন ডাঃ মলয় কুমার শূর এর কক্ষে গিয়ে তার বিরুদ্ধে যাবতীয় অভিযোগ ও মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ প্রয়োগ করে, শাসায়, ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের মাধ্যমে ওয়ারেন্ট ইস্যুর হুমকি প্রদান করে।
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

বিমানবাহিনীর নতুন প্রধান হাসান মাহমুদ খাঁনকে  অভিনন্দন জানিয়েছেন খাঁন আকতারুজ্জামান

প্রাণিসম্পদের দুর্নীতিবাজ কে এই ডাঃ আজিজ ?

আপডেট সময় ০৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ এপ্রিল ২০২৪
অনলাইন ডেক্স :   প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোঃ আব্দুুর রহমানের বাসার ড্রইং রুমের ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পোষ্ট করে মন্ত্রীর মাই ম্যান প্রমাণ করার জন্য মরিয়া নানান অপকর্মে চাকুরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আজিজুল ইসলাম। মন্ত্রীর সরলতার সুযোগ নিয়ে ডাঃ আজিজুল মন্ত্রীর বাসায় মন্ত্রীর লুঙ্গি পরিহিত ছবি তুলে নিজ ফেইসবুকে পোষ্ট করে। এছাড়াও  স্বঘোষিত নামসর্বস্ব বঙ্গবন্ধু ভেটেরিনারি পরিষদ এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও ফুল দিয়ে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোঃ আব্দুুর রহমানকে কনভেন্স করে নিজের অপকর্ম থেকে মুক্তি পেতে ব্যাস্ত আজিজুল। নিজ  অপকর্মের দায় থেকে মুক্তি পেতে লবিষ্ট নিয়োগে মোটা অংকের  টাকার বিনিময়ে তিনি মন্ত্রীর নিকটলোক দের কাছেও কম ধরনা দিচ্ছেন না বলে একটি সূত্র জানায়। তবে এত কিছু করেও তার শেষ রক্ষা হবে কিনা জানেন না ডাঃ আজিজ। কারন তিনি এখন ফৌজদারী মামলার আসামি। তেঁজগা থানা পুলিশ তার বিরুদ্ধে মামলা তদন্তে ব্যাস্ত। আর মামলার বাদী প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সদ্য সাবেক ডিজি ইমদাদুল হক।
অপর একটি সূত্র জানায়, অত্যন্ত ধূর্ত ও সুযোগ সন্ধানী এই আজিজ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা থেকে শুরু করে অদ্যবধি রুপ পাল্টিয়ে কখনও বিএনপি, কখনও শিবির কিংবা কখনও আওয়ামী লীগের লেবাস ধারণ করে আসছে। প্রকৃতপক্ষে এই ডাঃ আজিজ পারিবারিকভাবে স্বাধীনতা বিরোধী পরিবারের জন্মগ্রহণ করে। যার কারনে মনে প্রাণে জামায়াতে ইসলাম বাংলাদেশের রাজনীতির সাথে যুক্ত। যশোর জেলার কোতোয়ালী থানার তীরের হাট গ্রামের একজন কুখ্যাত রাজাকার মেহের আলী ডাঃ  মোঃ আজিজুল ইসলাম এর পিতা। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন অত্র এলাকার শান্তি বাহিনীর প্রধান ছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমান রয়েছে। 
নিজে বিরাট আওয়ামী লীগের আদর্শিক সেজে কৌশলে সদ্য সাবেক একজন মন্ত্রীর ঘনিষ্টতা অর্জন করেন আজিজ। এর পর থেকে তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক অপকর্ম করে সাবেক মন্ত্রীর তদবিরে পার পেয়ে যাচ্ছে একের পর এক অপকর্ম থেকে। যে কারনে নাম ভাঙ্গিয়ে চলা ডাঃ আজিজ নিজেকে অসীম ক্ষমতাবান মনে করেন। যার কারনে  তিনি চাকুরীতে কোন শৃংঙ্খলতা মেনে চলেন না বলে একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ।
সূত্র জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ‘প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ উদযাপনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অফিসিয়াল হোয়াটস এ্যাপ গ্রুপে বিসিএস (লাইভষ্টক) ক্যাডার কর্মকর্তার অশোভন, অসৌজন্যমূলক ও ব্যক্তিগত বিদ্বেষ প্রসূত বার্তার আদান-প্রদান’ সংক্রান্ত  বিষয় নিয়ের তদন্ত নিয়ে তুলকালাম ঘটনা ঘটান এই আজিজ। তিনি ঐ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অধিদপ্তরের সিনিয়র কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চড়াও হন।
গত ১ অক্টোবর তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানের বিষয় পরিবর্তনের জন্য ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম অযাচিত চাপ প্রয়োগ করেন। এ প্রেক্ষিতে ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম তদন্ত কমিটির সামনে টেবিল চাপড়ে অশোভন আচরণ করেন ও তদন্ত কাজে বাধাপ্রদানসহ হুমকি প্রদান করেন। একইসাথে তদন্ত কাজে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় হতে সরবরাহকৃত প্রমাণক সমূহ কমিটির সম্মুখে ছিঁড়ে ফেলেন ও তদন্তের ডকেট, সদস্য সচিবের কাছ থেকে কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। এসময় তিনি উত্তেজিত হয়ে বলতে থাকেন ‘দেশে আর্মি বেকড গভর্ণমেন্ট আসছে, তখন আমি দেখে নেব’।
তদন্ত কার্যক্রমে অসহযোগিতা ও বাধা প্রদানের জন্য তদন্ত কমিটি গত ২ অক্টোবর বিষয়টি প্রাণিসম্পদ অধিদরের সাবেক মহাপরিচাককে অফিসিয়ালী জানান এবং মহাপরিচালক বিষয়টি  প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেন।
সূত্র জানায়, তদন্ত কমিটি’র সভাপতি গত ৩ অক্টোবর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ‘অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের মাসিক অগ্রগতি পর্লোচনা সভায়’ প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে উপস্থিত হওয়ার পরপরই ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম বিনা প্ররোচনায় ও আকস্মিকভাবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউচের প্রায় ১৫ জন প্রকল্প পরিচালকসহ অন্যান্য সংস্থার কর্মকর্তাদের সামনে তদন্ত কমিটি’র সভাপতি ডাঃ মলয় কুমার শূরকে অশালীন ভাষায় ব্যক্তিগত আক্রমণসহ লাঞ্ছিত করেন। উক্ত ঘটনাকালে তিনি তদন্ত কমিটি’র সভাপতি ডাঃ মলয় কুমার শূরকে সাম্প্রদায়িক আক্রমনণসহ জীবননাশের হুমকি প্রদান করেন। বিষয়টি তদন্ত কমিটি’র সভাপতি মহাপরিচালকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়কে জানান।
পরে একই দিনে সভাশেষেই তদন্ত কমিটির সভাপতির সাথে মহাপরিচালকের কথ চলাকালীন সময় ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম অতর্কিতে মারমুখী হয়ে সাবেক মহাপরিচালক ডাঃ মোঃ এমদাদুল হক তালুকদার-এর দিকে তেড়ে আসেন এবং উচ্চ স্বরে হুমকি-ধামকি প্রদান করেন। এ সময়ে তিনি সাবেক কৃষিমন্ত্রী কে দিয়ে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। এময় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ.টি.এম  মোস্তফা কামালসহ উপস্থিত কর্মকর্তারা তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। মহাপরিচালক, বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত ও ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন।
সূত্র আরো জানায়, তদন্ত কার্যক্রমে বাধা প্রদানের জন্য ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম কে গত ৫ অক্টোবর থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে  প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এ ঘটনায় ডাঃ মলয় কুমার শূর, সরকারি কাজে বাধা, অফিস চলাকালীন সময়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি ও জীবননাশের হুমকির বিষয়গুলো দাপ্তরিকভাবে সাধারণ ডায়েরি করেন। (তেজগাঁও থানার সাধারণ ডায়েরি নং-৫৮২; তারিখ: ১০/১০/২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ) ।
আদালত সূত্রে জানাযায়, ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলামকে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় কর্তৃক সাময়িক বরখাস্থের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং ১২৯৬৮/২০২৩ দায়ের করে। আদালতকে পূর্ণাঙ্গ ঘটনাবলী গোপন করে ছয় (৬) মাসের স্থিতাবস্থা জারি করায়। সরকার পক্ষ উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে সিভিল পিটিশন নং ৩২২৭/২০২৩ দায়ের করে। সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ শুনানিতে হাই কোর্টের স্থিতিবস্থা বাতিলসহ উক্ত রিট মামলাটি  অবৈধ ঘোষণা করে।
সূত্র আরো জানায়, গত ১২ অক্টোবর ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম বহিরাগতদের নিয়ে মহাপরিচালকের রুমে গিয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে লাঞ্চিত করে এবং হত্যার হুমকি দেন। ডিজি বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন। এ ঘটনায় গত ১৮ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয় ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার নির্দেশ দেয়। পরে ডিজি গত ২১ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার এজাহার দেন এবং ২২ ডিসেম্বর ফৌজদারি বিধানে মামলা রেকর্ড হয়।
উল্ল্যেখ্য যে, ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে আগেও সিরাজগঞ্জ ভেটেরিনারি কলেজ স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দুর্নীতি ও অসদাচারণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় গত ২৩ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় তাঁকে তিরস্কারসূচক বিভাগীয় দন্ড প্রদান করে। এছাড়াও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের গত ৫ মে মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম-সচিবকে সভাপতি করে ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেটেরিনারি সার্ভিস জোরদারকরণ (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের অনিয়ম/দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি গঠন করে; তদন্ত শেষে আজিজুল ইসলামের ব্যপক দুর্নীতি ও অনিয়মের সুস্পষ্ট প্রমাণসহ তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা হয়েছে।
এছাড়াও  দুর্নীতি দমন কমিশন গত ১১জুন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেটেরিনারি সার্ভিস জোরদারকরণ প্রকল্প পরিচালক ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলামকে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান চলছে। উল্লেখ্য ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম ১২ অক্টোবর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক-কে অধিদপ্তরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান, অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাগণকে ধর্মীয় অনুভূতির ইস্যু তুলে গালিগালাজ ও ক্রমাগত হয়রানি এবং সরকার বিরোধী স্যাবোটাজসহ নানান ধরণের অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছেন মর্মে বিসিএস লাইভস্টক এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ভেটেরিনারি এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ এনিমেল হাজবেন্ড্রি এসোসিয়েশন, বঙ্গবন্ধু ভেটেরিনারি পরিষদ, দ্যা ভেট এক্সিকিউটিভ, বাংলাদেশ এনিমেল হাজবেন্ড্রি সোসাইটি, রিটায়ার্ড লাইভস্টক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন এর যৌথ প্রতিবাদ লিপি প্রদান করে ।
এর আগেও ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম সম্পর্কিত অভিযোগ তদন্তে প্রভাব খাটানোর অপচেষ্টার ফলে তদন্ত কমিটির প্রধান ড. অমলেন্দু ঘোষ গত ৭ নভেম্বর ২০২২ পত্রে তদন্ত পরিচালনায় বিব্রত বোধ করেন মর্মে উল্ল্যেখ করেন। উল্লেখিত ঘটনার প্রেক্ষিতে, ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত কার্যক্রম প্রক্রিয়া শুরু করে, তখন অত্যন্ত ধূর্ত ও দুষ্ট প্রকৃতির এই ব্যক্তি তৎকালীন কৃষি মন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাককে ভুল বুঝিয়ে ও প্রভাবিত করে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও তদন্তসমূহ ধামাচাপা দেওয়ার জোর তৎপরতা চালায়।
জানা যায়, গত ২০১৮ সালে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দায়েরকৃত মামলায় কৃষি মন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক এর পক্ষে বাদী হয় ধুরন্দর এই ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম। সুযোগ সন্ধানী এই ডাঃ আজিজ জানতো ঘটনার সময়কার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রায় একই সময়ে পরিবর্তন হবে এবং নতুন মন্ত্রী-সচিব ও মহাপরিচালককে আয়ত্তে এনে তার অপকর্ম ও মহা দুর্নীতির হাত থেকে বাঁচা সহজ হবে।
উল্লেখ্য যে, অজ্ঞাত শক্তির ঈশারার প্রেক্ষিতে ডাঃ আজিজের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি মামলা দ্রুততার সাথে শেষ করা ও মামলা থেকে অব্যাহতি প্রাপ্তির জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরসমূহের জোর তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডাঃ আজিজ মামলার আলামত নষ্ট করাসহ সাক্ষীদের প্রতিনিয়ত হুমকি-ধামকি দিয়ে যাচ্ছে এবং সন্ত্রাসী প্রকৃতির বহিরাগত লোকজন নিয়ে অধিদপ্তরে কালো শক্তি প্রদর্শন করছে।
ডাঃ আজিজ বর্তমান মহাপরিচালক প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ডাঃ মোহাম্মদ রেয়াজুল হক এর সাথে সাবেক মহাপরিচালক ডাঃ মোঃ এমদাদুল হক তালুকদারের সাথে তিক্ত সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ফায়দা লুটার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে। এ বিষয়ে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিরা শংকিত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
উল্লেখ্য এই ডাঃ আজিজ অতীতেও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক ও বাংলাদেশ ভেটেরিনারি এসোসিয়েশনের বর্তমান সভাপতি ডাঃ মোঃ নজরুল ইসলাম, সাবেক পরিচালক ডাঃ মোঃ সাব্বির হোসেন ও প্রাক্তন প্রকল্প পরিচালক মরহুম ডাঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম কে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেন বলেও অভিযোগ আছে।
ডাঃ আজিজ বহুদিন যাবৎ সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও অবৈধ উপায়ে বিভিন্ন সাংবাদিকদের প্রভাবিত করে অসত্য ও হয়রানিমূলক সংবাদ প্রচার করে আসছেন। এমনকি ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখেও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসন ডাঃ মলয় কুমার শূর এর কক্ষে গিয়ে তার বিরুদ্ধে যাবতীয় অভিযোগ ও মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ প্রয়োগ করে, শাসায়, ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের মাধ্যমে ওয়ারেন্ট ইস্যুর হুমকি প্রদান করে।