ঢাকা , সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিনে সমুদ্র সৈকতে পর্যটকের ঢল 

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪
  • 58
এস এম বাপ্পী অনলাইন ডেস্ক : পবিত্র ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিন দর্শনার্থীদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে পর্যটন নগরী কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। দীর্ঘ একমাস পর হাসি ফুটেছে হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীদের মুখে।  রমজান মাস কক্সবাজার অনেকটা পর্যটকশূন্য ছিল। দর্শনার্থীর সেই খরা কেটেছে। সমুদ্র সৈকতে ঈদের প্রথমে দিনে কিছু টা কম হলেও দ্বিতীয় দিনেই ঢল নেমেছে ভ্রমণপিপাসুর। নোনাজলে সমুদ্রস্নানের পাশাপাশি মেতেছেন সৈকতের বালিয়াড়িতে নাগরদোলা, বিচ বাইক ও ঘোড়ার পিঠে চড়ার আনন্দে। আবার কেউ কেউ ওয়াটার বাইক ও বিচ বাইকে সৈকত দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। আবার কেউ কিটকটে (চেয়ার-ছাতা) গা এলিয়ে দিগন্ত ছোঁয়া নীলজল রাশিতে মজে আছেন। কেউ কেউ বালুচরে দাঁড়িয়ে প্রিয়জনদের এসব আনন্দঘন মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দী করে রাখছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) সকাল থেকে সমুদ্রসৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণি পয়েন্টে পর্যটক নামতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে থাকে। সকাল থেকে কলাতলী থেকে লাবনী পয়েন্ট পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সমুদ্রসৈকতে লাখের অধিক  দর্শনার্থী নামেন বলে জানিয়েছেন সৈকতে দায়িত্বরত কর্মীরা। ঢাকার মিরপুর থেকে আগত পর্যটক আরাফাত রিয়াদ বলেন, অনেক দিনের ইচ্ছে, কক্সবাজার বেড়াতে আসব। অবশেষে ঈদের ছুটির দিনে পরিবার-পরিজন নিয়ে আসতে পেরেছি। এখানে সৈকতে নেমে অসাধারণ এক অনুভূতি, দীর্ঘ যাত্রাপথের সকল ক্লান্তি ভুলে গেছি। খুব ভালো লাগছে।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ভ্রমণে আসা হাসান রাকিব  বলেন,সমুদ্রের নোনা জলে গা ভাসিয়ে অন্য রকম এক প্রশান্তি। এখানে মনের সকল দুঃখ কষ্ট ভুলে থাকা যায়। সৈকতে দায়িত্বরত বিচকর্মী  মাহবুবুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পর্যটকরা কক্সবাজারমুখী হয়েছেন। শুধু ঈদের দিনেই অন্তত ৪০ হাজার পর্যটক সৈকতে নেমেছেন। শুক্রবার থেকে এ সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে।  এদিকে ঈদ ও পহেলা বৈশাখকে ঘিরে কক্সবাজারের প্রায় পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউসের ৮০ শতাংশ রুম অগ্রিম বুকিং হয়েছে। পর্যটকদের আনন্দে যেন ভাটা না পড়ে তাদের বাড়তি আনন্দ দিতে থাকছে নানা আয়োজন আর চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল কবির পাশা পল্লব  বলেন, পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে কক্সবাজারকে। হোটেল-মোটেল ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। পর্যটকরা এবার ভিন্ন কক্সবাজারকে দেখতে পাবেন আশা করা হচ্ছে। কক্সবাজার হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম নেওয়াজ বলেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে এবার পাঁচ লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম ঘটবে কক্সবাজারে। ইতোমধ্যে চার শতাধিক হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউসের ৯০ শতাংশ কক্ষ ভাড়া হয়ে গেছে।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, ঈদের দ্বিতীয় দিনে সৈকতে নেমেছেন অন্তত   দেড় লাখের  বেশি পর্যটক। দেশে প্রথমবারের মতো কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ইন্টারকম ও ইমার্জেন্সি বাটন স্থাপন করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। যার মাধ্যমে পর্যটকরা কোনো সমস্যায় পড়লে তৎক্ষণিক আমাদের অভিযোগ জানাতে পারবেন। ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, হোটেলে কক্ষ ভাড়ার তালিকা টাঙানোর নির্দেশনা দেওয়া আছে। অতিরিক্ত ভাড়া যেন আদায় না হয়, সে ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের পৃথক কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছেন। হোটেলে কক্ষ ভাড়ার বিপরীতে অতিরিক্ত টাকা আদায় করলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

বিমানবাহিনীর নতুন প্রধান হাসান মাহমুদ খাঁনকে  অভিনন্দন জানিয়েছেন খাঁন আকতারুজ্জামান

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিনে সমুদ্র সৈকতে পর্যটকের ঢল 

আপডেট সময় ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪
এস এম বাপ্পী অনলাইন ডেস্ক : পবিত্র ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিন দর্শনার্থীদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে পর্যটন নগরী কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। দীর্ঘ একমাস পর হাসি ফুটেছে হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীদের মুখে।  রমজান মাস কক্সবাজার অনেকটা পর্যটকশূন্য ছিল। দর্শনার্থীর সেই খরা কেটেছে। সমুদ্র সৈকতে ঈদের প্রথমে দিনে কিছু টা কম হলেও দ্বিতীয় দিনেই ঢল নেমেছে ভ্রমণপিপাসুর। নোনাজলে সমুদ্রস্নানের পাশাপাশি মেতেছেন সৈকতের বালিয়াড়িতে নাগরদোলা, বিচ বাইক ও ঘোড়ার পিঠে চড়ার আনন্দে। আবার কেউ কেউ ওয়াটার বাইক ও বিচ বাইকে সৈকত দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। আবার কেউ কিটকটে (চেয়ার-ছাতা) গা এলিয়ে দিগন্ত ছোঁয়া নীলজল রাশিতে মজে আছেন। কেউ কেউ বালুচরে দাঁড়িয়ে প্রিয়জনদের এসব আনন্দঘন মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দী করে রাখছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) সকাল থেকে সমুদ্রসৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণি পয়েন্টে পর্যটক নামতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে থাকে। সকাল থেকে কলাতলী থেকে লাবনী পয়েন্ট পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সমুদ্রসৈকতে লাখের অধিক  দর্শনার্থী নামেন বলে জানিয়েছেন সৈকতে দায়িত্বরত কর্মীরা। ঢাকার মিরপুর থেকে আগত পর্যটক আরাফাত রিয়াদ বলেন, অনেক দিনের ইচ্ছে, কক্সবাজার বেড়াতে আসব। অবশেষে ঈদের ছুটির দিনে পরিবার-পরিজন নিয়ে আসতে পেরেছি। এখানে সৈকতে নেমে অসাধারণ এক অনুভূতি, দীর্ঘ যাত্রাপথের সকল ক্লান্তি ভুলে গেছি। খুব ভালো লাগছে।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ভ্রমণে আসা হাসান রাকিব  বলেন,সমুদ্রের নোনা জলে গা ভাসিয়ে অন্য রকম এক প্রশান্তি। এখানে মনের সকল দুঃখ কষ্ট ভুলে থাকা যায়। সৈকতে দায়িত্বরত বিচকর্মী  মাহবুবুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পর্যটকরা কক্সবাজারমুখী হয়েছেন। শুধু ঈদের দিনেই অন্তত ৪০ হাজার পর্যটক সৈকতে নেমেছেন। শুক্রবার থেকে এ সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে।  এদিকে ঈদ ও পহেলা বৈশাখকে ঘিরে কক্সবাজারের প্রায় পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউসের ৮০ শতাংশ রুম অগ্রিম বুকিং হয়েছে। পর্যটকদের আনন্দে যেন ভাটা না পড়ে তাদের বাড়তি আনন্দ দিতে থাকছে নানা আয়োজন আর চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল কবির পাশা পল্লব  বলেন, পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে কক্সবাজারকে। হোটেল-মোটেল ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। পর্যটকরা এবার ভিন্ন কক্সবাজারকে দেখতে পাবেন আশা করা হচ্ছে। কক্সবাজার হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম নেওয়াজ বলেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে এবার পাঁচ লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম ঘটবে কক্সবাজারে। ইতোমধ্যে চার শতাধিক হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউসের ৯০ শতাংশ কক্ষ ভাড়া হয়ে গেছে।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, ঈদের দ্বিতীয় দিনে সৈকতে নেমেছেন অন্তত   দেড় লাখের  বেশি পর্যটক। দেশে প্রথমবারের মতো কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ইন্টারকম ও ইমার্জেন্সি বাটন স্থাপন করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। যার মাধ্যমে পর্যটকরা কোনো সমস্যায় পড়লে তৎক্ষণিক আমাদের অভিযোগ জানাতে পারবেন। ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, হোটেলে কক্ষ ভাড়ার তালিকা টাঙানোর নির্দেশনা দেওয়া আছে। অতিরিক্ত ভাড়া যেন আদায় না হয়, সে ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের পৃথক কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছেন। হোটেলে কক্ষ ভাড়ার বিপরীতে অতিরিক্ত টাকা আদায় করলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।