বিশেষ প্রতিনিধি : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের পড়ুয়ারা গ্রামে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ইদ্রিস মিয়া। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত এই ব্যক্তির অত্যাচারে জিম্মি হয়ে পড়েছে গ্রামের সাধারণ মানুষ ও অসংখ্য অসহায় পরিবার। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে বর্তমানে তার মাদক ব্যবসা আগের তুলনায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভয়ে এলাকাবাসী মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৬ সাল থেকে ইদ্রিস মিয়ার বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগ থাকলেও বিভিন্ন মহলের ছত্রচ্ছায়ায় তার আধিপত্য কমেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যকে ম্যানেজ করেই মূলত তার এই রমরমা মাদক ব্যবসা পরিচালিত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর স্থানীয় একটি দলের নাম ভাঙিয়ে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় স্থানীয় এক পরিবারকে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, পাড়ুয়ারা গ্রামের আবিদ আলী মজুমদারের ছেলে রাসেল মজুমদার একসময় ইদ্রীস মিয়ার সাথে বিভিন্নভাবে চলাফেরা করতো প্রকাশ আছে রাসেলকে দিয়ে ইদ্রিস সকল প্রকার অপরাধ মুলক কর্মকান্ডে ব্যবহার করতো। পরবর্তীতে রাসেল মজুমদারের এমন অপরাধ মুলক কর্মকান্ড দেখে তার পরিবার ও আত্মীয় স্বজন তাকে ইদ্রিসের এমন অপরাধ মূলক কর্মকান্ড এবং মাদক ব্যবসা থেকে সরে যেতে বার বার নির্দেশ দেন এবং পরিবর্তীতে পরিবার ও সমাজের অসংখ্য মানুষের সহযোগিতায় রাসেল মজুমদার মাদক ব্যবসায়ী ইদ্রিস থেকে দূরে সরে আসে।
ইদ্রিসের অপরাধের রাজত্ব থেকে বের হয়ে আসার পরপরই ইদ্রিস রাসেল মজুমদারকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দমকী দিয়ে আসতে থাকে যেন তার কাজে আবার ফিরে আসে। এতে রাসেল অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্ন ভাবে অপমান অপদস্ত এবং সমাজ থেকে বের করে দেয়ারও হুমকি দেন ইদ্রিস। এরই ধারাবাহিকতায় একই গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে রবিনের সাথে রাসেল মজুমদারের পূর্বশত্রুতার খবর ইদ্রিস জানতে পেরে রবিন মিয়া স্থানীয় গণিমিয়ার বাজারে মাদক ব্যবসায়ী জসিম মিয়ার বাজারে নিয়মিত মাদক সেবন করে থাকে এতে রাসেল মিয়া তার পিতা রুহুল আমিনকে বিষয়টি জানালে রবিন ক্ষিপ্ত হয়ে রাসেলকে বেদম মারধর করে মারধরের একপর্যায়ে রাসেল মজুমদার রবিণকে ধাক্কা দিলে রবিনের হাত কেটে যায়। এই নিয়ে রাসেলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে মাদক ব্যবসায়ী স্থানীয় প্রভাবশালী ইদ্রিস। এতে অতীতের সকল ক্ষোভের বশবতি হয়ে এই ঘটনাকে টেনে এনে রাসেলের বিরুদ্ধে একটি সাজানো বিচার বসানোর ব্যবস্থা করেন রবিন মিয়া ও ইদ্রিসের লোকজন।
গ্রামের কিছু সহজ সরল লোকজনকে হাতে নিয়ে রাসেল মজুমদারের বিরুদ্ধে রবিনের হাত কাটার অপরাধ দেখিয়ে রাসেলকে সালিশের নাম করে একদল সন্ত্রাসী ও মাদকসেবী লেলিয়ে তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বেঁধে বেদম মারধর করে। এ সময় তাঁকে জুতাপেটা করে, প্রকাশ্যে অপমান-অপদস্থ করা হয় এবং জোরপূর্বক ‘নাক খত’ দিতে বাধ্য করে এবং দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা করেন স্থানীয় সালিশ। এছাড়াও তাকে গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। পরিবারের সবাইকে একঘরে করে দেয়া হয় এবং মসজিদে নামাজে বাঁধা দেয়া হয়। রাসেল মজুমদার বলেন, “একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে আমাদের ধর্ম পালনের অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে। এটা আমার পরিবারের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক ও কষ্টের।” রাসেল মজুমদার আরো জানান, বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া, মারধর ও হুমকির ঘটনায় তিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইদ্রিস মিয়ার এহেন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে সে কয়েকবার জেলেও গিয়েছে। ২০১৮ সালের ৯মে গভীর রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে (মামলা নং এফআইআর- ১৫/১৬৮) জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। কয়েক মাস কারাবরণ করার পর পূণরায় এসে সে মাদক ব্যবসা শুরু করলে তাকে পূণরায় গ্রেফতার করা হয় ২০২৩ সালের ০৭ জানুয়ারী রাত ৮টায় যার মামলা নং চৌদ্দগ্রাম থানা- এফআইআর নং- ১৪ তাকে আবার গ্রেফতার করা হয়। আবারো সে জেল থেকে বের হয়েই তার অপরাধের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। যা এলাকাবাসীসহ প্রশাসন জানা সত্ত্বেও প্রশাসন থেকে কোনো কার্যকর প্রতিকার মেলেনি। উল্টো প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলে মোটা অঙ্কের উৎকোচ দিয়ে তিনি নিজের অপরাধ ঢাকছেন এবং আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। তার অব্যাহত হুমকির মুখে গ্রামের সাধারণ মানুষ এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
পিসিআর তথ্য অনুযায়ী তার মামলা সমূহ হলো- চৌদ্দগ্রাম থানার, এফআইআর নং-১৮, তারিখ- ০৭ জানুয়ারি, ২০২৩; জি আর নং-১৮, তারিখ- ০৭ জানুয়ারি, ২০২৩; সময়- ০২.০৫ ঘটিকা ধারা- ৩৬(১) সারণির ১৪(খ) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮;, এজহারে অভিযুক্ত – চার্জশীট :-১২৪, এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। চৌদ্দগ্রাম থানার, এফআইআর নং-১৫/১৬৮, তারিখ- ০৯ মে, ২০১৮; সময়- রা ত্র ০০.৩৫ ঘটিকা ধারা- ১৯(১) এর ৭(খ)/২৫ ১৯৯০ সালের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন; ., অভিযোগ পত্রে অভিযুক্ত (এজাহারনামীয়)।
চৌদ্দগ্রাম থানার, এফআইআর নং-৩৮, তারিখ- ২৫ এপ্রিল, ২০১৫; সময়- ধারা- ১৯(১) এর ৩(ক) ১৯৯০ সালের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন; ., এজহারে অভিযুক্ত। চৌদ্দগ্রাম থানার, এফআইআর নং-৩, তারিখ- ০১ আগস্ট, ২০১০; সময়- ধারা- ৩১৫/৩৪১/৩২৩/৩৭৯/৫০৬/১০৯ পেনাল কোড-১৮৬০; ., এজহারে অভিযুক্ত – এ বিষয়ে এলাকার সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ইদ্রিস মিয়াকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং গ্রামবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সুপার ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ডেস্ক : 























আখতারুজ্জামানের প্রতিবাদের সুফল পাচ্ছেন যাত্রী-প্রবাসীরা : জামায়াত আমির