ঢাকা , বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদ্মা ব্যারাজ, পদ্মা ও যমুনা দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত

20

অনলাইন ডেস্ক : পদ্মা ব্যারাজ, পদ্মা ওয়াই-টাইপ দ্বিতীয় সেতু ও যমুনা দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা আজকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং করেছি। আপনারা জানেন, পদ্মা ব্যারাজ, পদ্মা দ্বিতীয় সেতু ও যমুনা দ্বিতীয় সেতু—এগুলো খুবই প্রয়োজনীয় ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প এরই মধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর ওয়াই-টাইপ দ্বিতীয় সেতুও নীতিগতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যমুনা দ্বিতীয় সেতুর প্রয়োজনীয়তা ও দাবি রয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহারেও এ প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে সরকার।

তিনি বলেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের আগে সমন্বিত পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ভৌত কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরির জন্যই মূলত এ সভা হয়েছে। শেখ রবিউল আলম বলেন, সরকার পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। এই ব্যারেজের সর্বোচ্চ ব্যবহার কীভাবে করা যায়, বিশেষ করে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ব্যারেজটি ব্যবহারের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই পদ্মা ব্যারেজের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারেজ ও ওয়াই-টাইপ সেতুর মধ্যে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে কি না, কিংবা একটি অন্যটির সম্পূরক বা পরিপূরক হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিচ্যুতি ঘটবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে, পদ্মা ব্যারেজের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে পদ্মা ওয়াই-টাইপ সেতুও বাস্তবায়ন করা হবে।

মন্ত্রী জানান, প্রকল্প দুটিরই সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) চলমান রয়েছে। সমীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত নকশা (ডিটেইল ডিজাইন), উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি এবং এরপর ভৌত কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সরকার নীতিগত ও বাস্তবিকভাবে উদ্যোগ নিয়েছে।

যমুনা দ্বিতীয় সেতু প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, বৃহত্তর রংপুরকে যুক্ত করে দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরুর জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

পদ্মা ব্যারেজের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি অনেক দূর এগিয়েছে। এটি এরই মধ্যে একনেকে পাস হয়েছে। বিস্তারিত নকশা করার পর্যায়ে কাছাকাছি দূরত্বে পদ্মা ওয়াই-টাইপ সেতু নির্মাণের বিষয়টি সামনে আসে। এ কারণে দুটি প্রকল্পের মধ্যে কীভাবে সমন্বয় করা যায়, একটি প্রকল্পের মাধ্যমে অন্যটির উদ্দেশ্য পূরণের সুযোগ আছে কি না, কিংবা আরও বিস্তৃতভাবে পরিকল্পনা করার সুযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

তিনি বলেন, নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে, তিনটি প্রকল্পই বাস্তবায়ন হবে। পদ্মা ব্যারেজ, পদ্মা ওয়াই-টাইপ সেতু এবং যমুনা দ্বিতীয় সেতু। ফিজিবিলিটি স্টাডি আসার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই সরকার প্রকল্প তিনটি বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রেল, সড়ক ও মহাসড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, নৌপরিবহনমন্ত্রী রাজিব আহসানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

আখতারুজ্জামানের প্রতিবাদের সুফল পাচ্ছেন যাত্রী-প্রবাসীরা : জামায়াত আমির

পদ্মা ব্যারাজ, পদ্মা ও যমুনা দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত

আপডেট সময় ৪ ঘন্টা আগে
20

অনলাইন ডেস্ক : পদ্মা ব্যারাজ, পদ্মা ওয়াই-টাইপ দ্বিতীয় সেতু ও যমুনা দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা আজকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং করেছি। আপনারা জানেন, পদ্মা ব্যারাজ, পদ্মা দ্বিতীয় সেতু ও যমুনা দ্বিতীয় সেতু—এগুলো খুবই প্রয়োজনীয় ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প এরই মধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর ওয়াই-টাইপ দ্বিতীয় সেতুও নীতিগতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যমুনা দ্বিতীয় সেতুর প্রয়োজনীয়তা ও দাবি রয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহারেও এ প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে সরকার।

তিনি বলেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের আগে সমন্বিত পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ভৌত কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরির জন্যই মূলত এ সভা হয়েছে। শেখ রবিউল আলম বলেন, সরকার পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। এই ব্যারেজের সর্বোচ্চ ব্যবহার কীভাবে করা যায়, বিশেষ করে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ব্যারেজটি ব্যবহারের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই পদ্মা ব্যারেজের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারেজ ও ওয়াই-টাইপ সেতুর মধ্যে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে কি না, কিংবা একটি অন্যটির সম্পূরক বা পরিপূরক হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিচ্যুতি ঘটবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে, পদ্মা ব্যারেজের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে পদ্মা ওয়াই-টাইপ সেতুও বাস্তবায়ন করা হবে।

মন্ত্রী জানান, প্রকল্প দুটিরই সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) চলমান রয়েছে। সমীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত নকশা (ডিটেইল ডিজাইন), উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি এবং এরপর ভৌত কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সরকার নীতিগত ও বাস্তবিকভাবে উদ্যোগ নিয়েছে।

যমুনা দ্বিতীয় সেতু প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, বৃহত্তর রংপুরকে যুক্ত করে দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরুর জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

পদ্মা ব্যারেজের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি অনেক দূর এগিয়েছে। এটি এরই মধ্যে একনেকে পাস হয়েছে। বিস্তারিত নকশা করার পর্যায়ে কাছাকাছি দূরত্বে পদ্মা ওয়াই-টাইপ সেতু নির্মাণের বিষয়টি সামনে আসে। এ কারণে দুটি প্রকল্পের মধ্যে কীভাবে সমন্বয় করা যায়, একটি প্রকল্পের মাধ্যমে অন্যটির উদ্দেশ্য পূরণের সুযোগ আছে কি না, কিংবা আরও বিস্তৃতভাবে পরিকল্পনা করার সুযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

তিনি বলেন, নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে, তিনটি প্রকল্পই বাস্তবায়ন হবে। পদ্মা ব্যারেজ, পদ্মা ওয়াই-টাইপ সেতু এবং যমুনা দ্বিতীয় সেতু। ফিজিবিলিটি স্টাডি আসার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই সরকার প্রকল্প তিনটি বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রেল, সড়ক ও মহাসড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, নৌপরিবহনমন্ত্রী রাজিব আহসানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।